
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে লাল বাদশা (২০) নামে এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় গুরুতর আহত মাজেদুল ইসলাম (১৮) নামে আরও এক তরুণকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত লাল বাদশা ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর গুচ্ছগ্রামের জামালের ছেলে। আহত মাজেদুল ইসলামও একই গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম ইব্রাহিম।
রোববার (১৬ আগস্ট) নিহত বাদশার মা বাদী হয়ে ক্ষেতলাল থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন শনিবার বিকেলে জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সদর উপজেলার জামালগঞ্জ চার মাথার কাছাকাছি পেদার মোড় এলাকার একটি তেলের পাম্পে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করে। প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে তিনজনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আজিমুল হক (৩৫), পাম্পের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম সজীব (৩১), ক্ষেতলালের মহব্বতপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩০) এবং জয়পুরহাট সদর উপজেলার বেলতলা গ্রামের আমজাদ আলী (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাল বাদশা ও মাজেদুল ইসলাম জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশন এলাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় পাম্পের কর্মচারীরা তাঁদের আটক করেন। পরে তাঁদের পাশের একটি পোলট্রি খামারে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে মারধরের কারণে দুই তরুণ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে ঘটনা আড়াল করতে তাঁদের ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকার সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরদিন ভোরে স্থানীয়রা তাঁদের দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
আহত মাজেদুল ইসলাম জানান, তাঁরা চুরি করেননি বলে বারবার জানালেও তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং চুরির কথা স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে ভোরে জ্ঞান ফিরলে পাশে লাল বাদশার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি সাতজনকে আটক করেছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদে চারজনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাঁদের ক্ষেতলাল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ডিবি সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় আটক সাতজনের মধ্যে তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, গ্রেপ্তার চার আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন