
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার উদ্যোগ নেওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

রাজধানীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ইসলামী বইমেলায় ‘শাপলা কর্নার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি আসিফ মাহমুদের প্রতি এ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
মামুনুল হক বলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রথমবারের মতো শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারগুলোকে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগের স্বীকৃতি ও কৃতিত্ব দিয়ে তাকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
শাপলা চত্বরের আত্মত্যাগকে দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উল্লেখ করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তি যেমন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিহিত ছিল, তেমনি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেরণার শিকড় ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের আত্মত্যাগের মধ্যেও রয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের মতো শাপলা চত্বরের শহীদদেরও পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার দাবি সংসদ ও রাজপথে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মামুনুল হক জানান, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শাপলা স্মৃতি সংসদ শহীদদের একটি প্রামাণ্য তালিকা তৈরি করেছে। ‘শহীদনামা’ নামে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থে ওই তালিকা সংরক্ষণ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা হত্যাকাণ্ডের মামলা পরিচালনা এবং শহীদদের পরিচয় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তালিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানে শাপলা স্মৃতি সংসদের সদস্যসচিব মাওলানা কামালউদ্দীনসহ সংগঠনের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে ইসলামী বইমেলায় ‘শাপলা স্মৃতি সংসদকে’ স্টল বরাদ্দ দেওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মেলা কর্তৃপক্ষের প্রতিও ধন্যবাদ জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শাপলা চত্বরের চেতনা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন মাওলানা মামুনুল হক।
মন্তব্য করুন