
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এমনকি অস্তিত্বহীন চালকলের নামেও সরকারের সঙ্গে চাল সরবরাহের চুক্তি থাকার অভিযোগ উঠেছে। খাদ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে একটি সিন্ডিকেট বছরের পর বছর এভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

উপজেলার চান্দাইকোনা এলাকায় অবস্থিত আনোয়ারা সেমি অটো চালকলটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ। দীর্ঘদিনের অযত্নে মিলের চাতাল ও ভবন আগাছায় ঢেকে গেছে। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, বয়লার কিংবা হাউজ। অথচ চলতি বছর এই বন্ধ মিল থেকেই সরকারের কাছে ১১৯ টন চাল সরবরাহের চুক্তি হয়েছে।
শুধু আনোয়ারা সেমি অটো চালকল নয়, একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে সৌরভ অটো রাইস মিল, ওমর সেমি অটো রাইস মিল ও লুৎফা অটো রাইস মিলসহ উপজেলার আরও কয়েকটি চালকলের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব মিলের কোনোটি দীর্ঘদিন ধরে চালু নেই। কোথাও মিলের চাতাল ভাড়া দিয়ে কাঠের গুঁড়া শুকানো হচ্ছে, কোথাও গড়ে উঠেছে মুরগির খামার। আবার কোনো কোনো গুদামে চলছে গরুর খামার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর এসব চালকল বন্ধ থাকলেও তাদের সঙ্গে সরকারের চাল কেনার চুক্তি করা হচ্ছে। ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে একটি চক্র খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
বিষয়টি নিয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এমন কিছু অভিযোগ আছে। তবে এ ব্যাপারগুলো জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ভালো বলতে পারবে।’
অভিযোগের বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘এমন অভিযোগে এরই মধ্যে রায়গঞ্জের পাঁচটি মিলের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।’
খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রায়গঞ্জ উপজেলার ১৩৭টি চালকলের সঙ্গে সরকারের প্রায় ৮৮ কোটি টাকা মূল্যের চাল সরবরাহের চুক্তি রয়েছে।
বন্ধ ও অস্তিত্বহীন মিলের সঙ্গে সরকারি চাল কেনার চুক্তি কীভাবে হচ্ছে এবং এতে কারা জড়িত, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন