
বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে জমি ও গোচারণভূমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের পাকুরিয়ার চর এলাকার নান্টুর মোড়ে হামলার শিকার হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত মোসলেম উদ্দিন প্রামাণিক (৬২) পাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং কাজলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকুরিয়ার চর এলাকায় জমি ও গোচারণভূমি নিয়ে মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাকুরিয়া বাজারে চা পান শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে নান্টুর মোড় এলাকায় পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন তার পথরোধ করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তাকে বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই ও কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজাহান আলী জানান, একই গ্রামের দুদু সরকারের ছেলে নান্টু সরকারের সঙ্গে জমি ও গোচারণভূমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে মোসলেম উদ্দিনের বিরোধ চলছিল। তার দাবি, নান্টু সরকারের নেতৃত্বে হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে মোসলেম উদ্দিনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সখিনা বেগম সারিয়াকান্দি থানায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জন হলেন— জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চর শুভগাছা গ্রামের মৃত আসাদুজ্জামান খানের ছেলে হায়দার আলী খান (৭০) ও গিয়াস আলী খান (৭৫), সারিয়াকান্দির কাজলা ইউনিয়নের চর পাকুরিয়া গ্রামের নান্টু সরকার (৫৬), সুজন মণ্ডল (৩২), মোখলেছুর রহমান (৫৫) এবং সোহেল সরকার (৩৫)।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম আসাদুজ্জামান বলেন, জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন