
দলের দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীরা যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না-এমন আক্ষেপ করেছেন যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন। তাঁর অভিযোগ, যারা কঠিন সময়ে রাজপথে ছিলেন না, তাদের অনেকেই এখন দলের ক্ষমতার বৃত্তে অবস্থান করছেন। বিপরীতে আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকার করা অনেকে দল ও ক্ষমতার বলয়ের বাইরে চলে গেছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০১৮ সালের ঈদের দিনের একটি পুরোনো ছবি প্রকাশ করে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
নয়ন জানান, ছবিটি ২০১৮ সালের ১৬ জুনের। সেদিন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন। ঈদের দিন সকাল ৮টার দিকে দলের নেতা রুহুল কবির রিজভী তাঁকে ফোন করে নেতাকর্মীদের নিয়ে পল্টন কার্যালয়ের সামনে আসতে বলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সেখানে মিছিল করার কথা ছিল।
নয়ন স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেদিন সকাল থেকেই বাইরে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিল। ঈদের দিন হওয়ায় নেতাকর্মীদের জড়ো করাও কঠিন ছিল। বিষয়টি রিজভীকে জানালে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে সব পরিস্থিতিতে রাজপথে থাকার কথা বলে নয়নকে উৎসাহিত করেন।
পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে দ্রুত পল্টন কার্যালয়ের সামনে পৌঁছান নয়ন। বৃষ্টির মধ্যেই সেখানে মিছিল করেন তারা। মিছিল শেষে পার্টি অফিসের সামনে রাজপথে বসে রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য শোনার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
নয়ন বলেন, বর্তমানে রুহুল কবির রিজভী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ায় বিষয়টি তাঁর জন্য আনন্দ ও আবেগের। তিনি লেখেন, আজকে আমাদের রিজভী ভাই দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হয়েছেন। এটা আমাদের জন্য বড় খুশির, আবেগের।
তবে দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের ভূমিকা ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নয়ন। তাঁর দাবি, সেই সময় রিজভী অনেককে রাজপথে ডেকেও পাননি। অথচ তাদের অনেকে এখন দলের ক্ষমতার বলয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন।
অন্যদিকে, তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির মিছিলে অংশ নেওয়া অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে দল ও ক্ষমতার বৃত্ত থেকে দূরে সরে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁদের কেউ কেউ অভিমান করে রাজনীতি থেকেও দূরে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন নয়ন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অতীত ভূমিকা দেখার আহ্বান জানিয়েছেন যুবদল নেতা।
তিনি বলেন, যারা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় বড় কথা বলেন, ২৪-এর পর জুলাই যোদ্ধা হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন, দিনরাত রাজনৈতিক বক্তব্য দেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে ট্যাগ করেন-তাদের উচিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের ইতিহাস দেখা।
নয়নের ভাষ্য, দলের দুঃসময়ে ত্যাগীরা কতটা কষ্ট করেছেন এবং কীভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তা বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন। বৃষ্টি ও ঈদের আনন্দ উপেক্ষা করে যারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন, তাদের অবদানও মনে রাখা উচিত।
ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন নিয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সুবিধাবাদীদের ভিড়ে ত্যাগীরা হারিয়ে যাচ্ছেন-এটা কষ্টের।
রাজনীতিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবস্থান বোঝাতে নয়ন তাদের শ্রমিকের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, ত্যাগীরা কঠোর পরিশ্রম করে, জীবন বাজি রেখে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে; কিন্তু সেই পরিশ্রমের সুফল ভোগ করার সুযোগ অনেক সময় তাদের থাকে না।
নয়ন লেখেন, রাজনীতিতে ত্যাগীরা আসলে শ্রমিকের মতো। তারা শরীরের ঘাম পায়ে ফেলে, রক্ত পানি করে পণ্য উৎপাদন করে, কিন্তু সেই পণ্যে তাদের কোনো অধিকার থাকে না।
তিনি আরও বলেন, ত্যাগীরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করলেও সুবিধা ভোগ করেন এমন ব্যক্তিরা, যারা আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এসি রুমে বসে টেলিভিশন দেখেছেন।
মন্তব্য করুন