
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপানোর কাজ চলছে।

সূত্র জানিয়েছে, শনিবার দুপুরের পর নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলোও এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার রাতেও বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপন ছাপানোর কাজ চলছিল। সব প্রক্রিয়া নির্ধারিতভাবে শেষ হলে শনিবারই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হতে পারে।
গত ৩১ আগস্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। অনুমোদিত কাঠামোতে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। তবে অনুমোদনের প্রায় তিন সপ্তাহ পর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে নতুন বেতন কাঠামো।
এর আগে ৩১ আগস্ট নতুন পে স্কেলের খসড়ার একটি অংশ অর্থ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। পরে বাকি অংশও পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যায়।
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে এসব গ্রেডে মূল বেতন আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হবে।
অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এই গ্রেডে বিদ্যমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে।
প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল একবারে নয়, তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ জুলাই থেকেই এর কার্যকারিতা ধরা হবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামোর সুবিধা পাবেন।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।
নতুন পে স্কেলের ভিত্তি তৈরিতে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল।
এ ছাড়া বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতায় ব্যাপক সংস্কারের সুপারিশও করেছিল কমিশন।
পরে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়েই নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
সবশেষে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও বিজি প্রেসে ছাপার কাজ শেষ হওয়ার পর এখন আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের অপেক্ষা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরের পরই বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হতে পারে।
মন্তব্য করুন