
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদের গণদাবি বাস্তবায়নে আন্দোলন চালিয়ে যাবে ১১ দলীয় জোট। এ জন্য ঢাকার সমাবেশে সবাইকে চিড়া-মুড়ি নিয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামমুখী লং মার্চ উপলক্ষে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ১১ দলীয় জোট আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা চিড়া-মুড়ি নিয়ে ঢাকার সমাবেশে আসবেন। জুলাই সনদের সব গণদাবি আমরা আদায় করব। আমরা আশাবাদী, আস্থাশীল। দুর্নীতিমুক্ত ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে যত দাবি আছে, তা আমরা আদায় করব ইনশা আল্লাহ।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ এখন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও সার পাচ্ছে না। সরকার ক্ষমতায় এসে জনগণের দেওয়া গণরায় ভুলে গেছে। আন্দোলনের মাধ্যমেই গণরায় বাস্তবায়ন করা হবে; তা না হলে সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় জানানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়। তার দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন সব মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন।
সংসদে এমপি গয়েশ্বর চন্দ্রের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশ মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়ে মাদকের বড় চালান আসছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন, যুবসমাজকে রক্ষা করেন।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ পথসভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের পতন হবে। তিনি জানান, ২০২২ সালে তিনি বলেছিলেন শেখ হাসিনাকে এক কাপড়ে দেশত্যাগ করতে হবে এবং সেটিই হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ হন, আমরা ক্ষমতায় আসব। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে দেশে শৃঙ্খলা ফিরবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। শেখ হাসিনা মেগা প্রকল্পের নামে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকার জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে দাবি করে মামুনুল হক বলেন, দেশের মানুষ সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে।
তিনি বলেন, আমাদের এ আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলন নয়। গণরায় বাস্তবায়নের আন্দোলন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ এখন কঠিন সময় পার করছে। মানুষ তিন বেলা খাবার জোগাড় করতে পারছে না এবং লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন। সরকারের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি মানুষের গণরায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ১ হাজার ২০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল ৪ হাজার টাকা হয়ে গেছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বিদ্যুৎ দিতে না পেরে আইসিইউতে চলে গেছেন।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাছীর উদ্দিন পাটোয়ারী, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব আলী হোসেন আকন্দ, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য মু. আবদুস সাত্তার।
পথসভা শেষে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ সহস্রাধিক গাড়ির বহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।
পথে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরে আয়োজিত আরেকটি পথসভায় ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সেখানে নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
মন্তব্য করুন