
বগুড়ার উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস বট ও গুপ্ত শুধু জামায়াত-শিবির কিংবা আওয়ামী লীগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিএনপির মধ্যেও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে ‘বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জ ও বগুড়াকে আলাদাভাবে দেখতে চান না। সরকার দেশের সব অঞ্চলের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। তাই বগুড়ার উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মীর শাহে আলম বলেন, এবারের দুর্গোৎসবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে তিনটি অঞ্চলে দুর্গাপূজা পরিদর্শন করেছেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। বিগত নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, সেই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে সারা দেশে ১ হাজার ২০০টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসনও দায়িত্ব পালন করেছে।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়া কৃষি ও খাদ্যে উদ্বৃত্ত একটি জেলা। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। প্রধানমন্ত্রী সমতাভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাস করেন। বগুড়ার জন্য অতিরিক্ত কোনো সুবিধা চাওয়া হচ্ছে না; বরং বিগত সময়ে সৃষ্ট উন্নয়ন ঘাটতি পূরণের দাবি জানানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ২০ বছরে বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফখরুদ্দীন-মঈন উদ্দিনের সরকারকে ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার উত্তরাঞ্চলের মানুষকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধোঁকা দিয়েছে।
বগুড়ার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ, বিমানবন্দর চালু, সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা, স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ, সড়ক ও পৌরসভার উন্নয়ন, বগুড়া ওয়াসা এবং বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বগুড়ার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি পূরণ এবং এলাকার সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
মন্তব্য করুন