
আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ব্যবসা করেছে, আর বর্তমানে আরেকটি দল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যবহার করে একই ধরনের ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

তিনি বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ কিংবা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না। বরং মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সবার যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চায়।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রত্যেককে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করেই দেশ পরিচালনা করতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই বিএনপির প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে কায়কোবাদ বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জানমাল ও মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। গত নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁকে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সময়ও মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। এ জন্য তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানান।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রবাসী কার্ড এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মতো উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাত্র আট মাসে এতগুলো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তাঁর জন্য দোয়া চান।
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মুরাদনগরের পরীক্ষার ফলাফল তাঁকে ব্যথিত করেছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পরপর দুই থেকে তিনবার খারাপ হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের জন্য তিনি সুপারিশ করবেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেও শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে না পারা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও কল্যাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কায়কোবাদ বলেন, প্রতিভা স্কুল পরিদর্শন করে তিনি অভিভূত হয়েছেন। অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়টির উন্নয়নে প্রয়োজন হলে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। এর আগে স্কুলটির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এক লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও মুরাদনগরের মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও টানে এলাকায় এসেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হিপ রিপ্লেসমেন্ট ও চোখের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা করেই তিনি এখানে এসেছেন। চিকিৎসার জন্য ছুটি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
মুরাদনগরের জনগণ তাঁকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কায়কোবাদ বলেন, ‘কায়কোবাদ যতক্ষণ বেঁচে আছে, ততক্ষণ আপনাদের পাশে থাকবে।’
উপজেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মুরাদনগরে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো আল্লাহর রহমতে সম্পন্ন হলে আগামী পাঁচ বছরে এখানে আর উন্নয়নকাজের প্রয়োজন হবে না।
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ লাখ টাকা, মোট ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মুরাদনগর উপজেলায় এক লাখের বেশি গাছ লাগানোর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ৭ হাজার এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য শুধু অর্থ প্রদান নয়, বরং বৃক্ষরোপণে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করা। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, সনাতন ধর্মাবলম্বী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন