
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে চলমান অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যেই নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। অবরোধের সমর্থনে ভোর থেকেই সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অবস্থান নেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সংগঠনটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৪৮ ঘণ্টার এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১, ১৫ ও ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর থেকে চতুর্থ দফায় সাজেক সড়কে অবরোধ চলছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ কর্মসূচির কারণে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটনশিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অবরোধের কারণে স্থানীয় জুমচাষিরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না। ফলে ক্ষেত ও ঘরে উৎপাদিত কৃষিপণ্য নষ্ট হচ্ছে। পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ খাতের সঙ্গে জড়িত মানুষের আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতিতে। পাশাপাশি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির অভিযোগ, আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর প্রভাব ও চাপের কারণে জুমচাষিদের অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের দাবি, পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে অবরোধ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে সংগঠন দুটি এ কর্মসূচি পালন করছে। তাদের অভিযোগ, সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
দীর্ঘদিনের অবরোধে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধের সংকট বাড়ছে। একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে পর্যটন কার্যক্রম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত ২৬ অক্টোবর উজো বাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়নি।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।
সব মিলিয়ে পাল্টাপাল্টি অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ, পর্যটনশিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় জনজীবনে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন