
ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাপথ সম্প্রসারণ করে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চালু করা হচ্ছে। এতে নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনী জেলার যাত্রীরা প্রথমবারের মতো মহানগর এক্সপ্রেসে কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ থাকলেও এই পাঁচ জেলার যাত্রীদের জন্য নতুন এ সংযোগ বাড়তি সুবিধা নিয়ে এসেছে। আগে চট্টগ্রামে নেমে অন্য ট্রেন বা বাসে করে কক্সবাজার যেতে হতো। মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণের ফলে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন যাত্রীরা।
সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটির সম্প্রসারিত সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭২১ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। এরপর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে ট্রেনটি।
অন্যদিকে, ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম থেকে রাত ৩টায় যাত্রা করে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছানোর কথা রয়েছে ট্রেনটির।
রবিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি। এতে সাত শতাধিক আসন রয়েছে। সম্প্রসারিত রুটে চলাচলের টিকিট বিক্রি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। যাত্রীদের আগ্রহের কারণে প্রথম দিনের টিকিট অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তী দিনগুলোর টিকিটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাহিদা দেখা যাচ্ছে।
মহানগর এক্সপ্রেস সরাসরি কক্সবাজার পর্যন্ত চালুর খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। আখাউড়ার ব্যবসায়ী ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আকিজ কোম্পানির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি কক্সবাজার যাবেন। এ জন্য মহানগর এক্সপ্রেসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।
ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, “আমি মহানগর এক্সপ্রেসেই যাব। এটা আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ। আগে চট্টগ্রাম গিয়ে আবার আরেকটি ট্রেন বা বাসে করে কক্সবাজার যেতে হতো।”
শিক্ষক মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, কক্সবাজার যাওয়ার জন্য তিনি ২৭ অক্টোবরের মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কেটে রেখেছেন।
যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও ট্রেনটির সময়সূচি যথাযথভাবে বজায় রাখা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, একটি রেক দিয়েই ট্রেনটি ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়া-আসা করবে। অর্থাৎ, যে রেক কক্সবাজার যাবে, সেটিই আবার ঢাকায় ফিরে আসবে।
সপ্তাহে ছয় দিন চলাচলের সময় ট্রেনটি ঢাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা এবং কক্সবাজারে তিন ঘণ্টা সময় পাবে। এ সময়ের মধ্যে ইঞ্জিন পরিবর্তন, ট্রেন পরিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করতে হবে। যাত্রাপথে কোনো কারণে বিলম্ব হলে পরবর্তী যাত্রায় নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এর আগে মহানগর এক্সপ্রেসের মতো এক রেক দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহের পরিবর্তে জামালপুর পর্যন্ত বিজয় এক্সপ্রেসের চলাচল সম্প্রসারণের পর ট্রেনটির নিয়মিত বিলম্বের অভিযোগ ওঠে। ট্রেনটি চট্টগ্রাম–জামালপুর রুটে একই রেক দিয়ে যাওয়া-আসা করে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে মহানগর এক্সপ্রেসের সময়ানুবর্তিতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানান, ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে পরিচালিত হবে।
তিনি জানান, ট্রেনটির কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত রুটে যাত্রা উদ্বোধনের আগে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ উপস্থিত থাকবেন।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজকের মহানগর এক্সপ্রেসের চট্টগ্রাম–ঢাকা রুটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। ট্রেনটির খালি রেক রবিবার রাতে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।
নতুন এই রেলসংযোগ চালুর ফলে নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীর যাত্রীদের কক্সবাজার যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সেবাটির সাফল্য ধরে রাখতে নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
মন্তব্য করুন