
সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের একটি অংশের রাজনৈতিক ব্যস্ততার ধরন বদলে গেছে। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা অনেক নেতা এখন এমপি-মন্ত্রী ও সরকারি পদধারীদের ঘিরে অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থন পাওয়া, সরকারি সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হওয়া কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি-এসব বিষয়ও তাঁদের রাজনৈতিক তৎপরতার অংশ হয়ে উঠেছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাহরুল আলম এর একটি উদাহরণ। গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির সমর্থনে জয়ী হওয়া এই চেয়ারম্যান এবারও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। ঢাকায় ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা ব্যক্তিগত কাজে এলেও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. বরকতউল্লা বুলুর সঙ্গে দেখা করাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
বাহরুল আলমের ভাষায়, নির্বাচনে প্রার্থী হতে স্থানীয় এমপির সমর্থন প্রয়োজন। তাই এমপি এলাকায় এলে তিনি দেখা করেন, আবার নিজে ঢাকায় এলে তাঁর বাসায় যান।
শুধু বাহরুল আলম নন, বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতার রাজনৈতিক তৎপরতাতেও এখন একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ঢাকায় এসে এমপি-মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, নিজের অবস্থান জানান দেওয়া এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। কেউ কেউ ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ খুঁজছেন, কেউ সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন।
ফলে সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে বিএনপির সামনে একটি সাংগঠনিক প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে-দল কি সরকারকে সহযোগিতা করতে গিয়ে ধীরে ধীরে সরকারের ভেতরেই মিশে যাচ্ছে?
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর বিএনপির সামনে দুটি বড় দায়িত্ব ছিল। একদিকে রাষ্ট্র পরিচালনা, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা দলীয় সংগঠনকে সচল রাখা। কিন্তু ছয় মাসের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততায় দলীয় রাজনীতি অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।
দলের নেতারাই স্বীকার করছেন, এই সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি সীমিত ছিল। দিবসভিত্তিক কর্মসূচির বাইরে মাঠে দলটির তৎপরতা খুব বেশি দৃশ্যমান হয়নি। বিপরীতে বিরোধী দলগুলো সংসদের ভেতরে ও বাইরে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছে।
এর পেছনে বাস্তব কারণও রয়েছে। বিএনপির মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একটি বড় অংশ এখন সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী। জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বেও রয়েছেন দলের নেতারা। ছাত্রদল, যুবদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকেও সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফলে মাঠের নেতৃত্বের একটি বড় অংশ এখন সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে যাঁরা কোনো সরকারি পদ পাননি, তাঁদের অনেকের নজর আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার দিকে।
সরকার এ বছরের মধ্যেই সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছে। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতাও শুরু হয়েছে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে কি না, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে-কে দলের সমর্থন পাবেন। এই বাস্তবতায় এমপি ও মন্ত্রীরা মাঠের নেতাদের কাছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মনে করেন, সরকারকে সহযোগিতা করা আর সরকারের সঙ্গে দলকে একীভূত করে ফেলা এক বিষয় নয়। তাঁর মতে, দল সরকারে গেলে সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে। তবে সরকার গঠনের পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দ্রুত পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়নি-এটি তিনি স্বীকার করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠন এবং দলের জাতীয় সম্মেলনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তবে বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ (প্রিন্স) সরকারে দল মিশে যাওয়ার ঝুঁকি একেবারে অস্বীকার করেননি। তাঁর মতে, দলের অনেক নেতাই এখন এমপি-মন্ত্রী, আবার অনেকে স্থানীয় সরকারে প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন। ফলে সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সময় লেগেছে।
তিনি জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি নিয়ে সতর্ক। তিনি বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন, সরকারের কাজে দলের সহযোগিতা প্রয়োজন, কিন্তু সরকারের ভেতরে দলকে ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে না।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাস ছিল রাষ্ট্রের কাঠামো সচল করা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রস্তুতির সময়। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে।
বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের কয়েকটি কর্মসূচিও এর মধ্যে শুরু হয়েছে। পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী দেওয়ার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এপ্রিলে কৃষক কার্ডের প্রাক্-পাইলট কর্মসূচি চালু করে প্রাথমিকভাবে ২২ হাজারের বেশি কৃষকের কাছে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়। জুনে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচিও উদ্বোধন করা হয়েছে।
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলোর দাবি, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের পতনের পর দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। প্রশাসন স্বাভাবিক করা, অর্থনীতি সামলানো, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করাই ছিল সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার।
সরকারের প্রথম ছয় মাসের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে রাজনৈতিক পরিসর তুলনামূলক উন্মুক্ত থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়নের অভিযোগ ছিল। গুম, খুন, হামলা ও মামলার মাধ্যমে বিরোধী রাজনীতির পরিসর সংকুচিত করার অভিযোগও ছিল।
বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসে সে ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়নের চিত্র দেখা যায়নি। বিরোধী দলগুলো সরকার ও ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করছে এবং নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশ্যে তুলে ধরছে। সংসদের ভেতরে-বাইরে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও হচ্ছে।
গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও আগের মতো চাপের চিত্র দেখা যাচ্ছে না। সংবাদপত্রগুলো সরকারের সিদ্ধান্ত ও ক্ষমতাসীনদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। নাগরিক সমাজও বিভিন্ন বিষয়ে স্বাধীনভাবে মতামত দিচ্ছে।
তবে সংস্কারের প্রশ্নে সরকারের জন্য অস্বস্তি রয়ে গেছে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচার ও নির্বাচনব্যবস্থা, প্রশাসন, পুলিশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার নিয়ে বিস্তৃত ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। বিএনপিও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল।
কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর কোন সংস্কার দ্রুত করা হবে, কোনটি পরে এবং কোনটির জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন-এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান নিয়ে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের সমালোচনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নটি শুধু সংস্কার বাস্তবায়নের নয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, সরকারের কার্যক্রম তার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ-সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনে জয় বিএনপিকে সরকার গঠনের বৈধতা দিয়েছে। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা দলটির ওপর একটি রাজনৈতিক দায়ও তৈরি করেছে। সংসদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক শক্তিরও ঘাটতি নেই। ফলে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে সংস্কার কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
সরকারের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নেতৃত্ব, কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়োগ দেওয়াকে কেউ কেউ দলীয় নেতাদের ‘পুনর্বাসন’ হিসেবে সমালোচনা করছেন।
অথচ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। ফলে এসব নিয়োগ সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারের পক্ষে যুক্তি হতে পারে, রাষ্ট্র পরিচালনায় আস্থাভাজন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া রাজনৈতিক সরকারের জন্য অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি সংবেদনশীল। কারণ দলটি সাড়ে ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ করে এসেছে। ফলে বিএনপি সরকারের নিয়োগের বিষয়গুলোও জনগণ আগের অভিজ্ঞতার আলোকে বিচার করছে।
বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য বলেছেন, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা অযোগ্য নন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন-সরকারে থেকে তাঁর লোকজন থাকবে না কেন?
রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বিএনপির সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, ব্যাংকিং খাত ও রাজস্ব আদায়ের চাপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের সমস্যাও রয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিরও বড় ভূমিকা রয়েছে।
গ্যাসের ঘাটতি ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাট শিল্পকারখানার উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি করছে। অথচ বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বড় অংশ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে বাজারের চাপ এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সরকারের জনপ্রিয়তায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের পর সরকার ও দলে দায়িত্ব বণ্টনে পরিবর্তন আসে। এরই মধ্যে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে রুহুল কবির রিজভীসহ চার নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে তাঁদের কয়েকজনকে নিয়ে নেতা-কর্মীদের একাংশের অসন্তোষ রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সরকার গঠনের পর বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। এ সময়ে স্থায়ী কমিটির সভা হয়েছে চারটি। সর্বশেষ সভায় রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তারেক রহমানকে দেওয়া হয়।
তবে ছয় মাস পূর্তির সময় দলকে নতুন করে সক্রিয় করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতৃত্ব পুনর্গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
৪ জুলাই থেকে তারেক রহমান গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা জেলা এবং চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে তৃণমূলে সংগঠন শক্তিশালী করা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির নেতাদের অনেকে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের ধারণা, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সংগঠন কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে-দলের শীর্ষ নেতৃত্বও তা উপলব্ধি করছে।
এখন মাঠের নেতাদের কাছে দলকে আবার রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় করে তোলাই বড় কাজ। এমপি-মন্ত্রীদের বাসায় সাক্ষাৎ, সরকারি পদ-পদবি কিংবা স্থানীয় নির্বাচনে সমর্থন পাওয়ার প্রতিযোগিতার বাইরে তৃণমূলকে রাজনৈতিক কর্মসূচি, জনসম্পৃক্ততা ও সংগঠননির্ভর রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে হবে।
বিএনপি সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কয়েকটি কর্মসূচি শুরু করেছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজস্ব ছন্দ তৈরি করার চেষ্টা করছে। বিরোধী দল ও মতের রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের তুলনামূলক উন্মুক্ত পরিবেশ সরকারের প্রথম ছয় মাসের ইতিবাচক দিক।
অন্যদিকে সংস্কার ও সরকারি নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, অর্থনৈতিক চাপ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট এবং দলের সাংগঠনিক স্থবিরতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় বিদ্যুৎ-সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উগ্রবাদী তৎপরতা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাসেও এর কয়েকটি নতুন করে দৃশ্যমান হয়েছে।
সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত বিএনপিকেই নিতে হবে। একইভাবে দলের প্রতিটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের প্রভাবও পড়বে সরকারের ওপর।
তাই ক্ষমতার কেন্দ্র ঘিরে নেতা-কর্মীদের ব্যস্ততার বিপরীতে বিএনপিকে কতটা স্বাধীন ও সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে মাঠে রাখা যায়-এটাই এখন দলটির অন্যতম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।
মন্তব্য করুন