
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনকে নিয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দলের অনুমতি পেলে ওই বক্তব্যের ঘটনায় মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফরিদা ইয়াসমিন।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, তিনি একজন সংসদ সদস্য এবং আমির হামজাও একজন সংসদ সদস্য। প্রত্যেকেরই নিজস্ব মর্যাদা ও সম্মান রয়েছে। একজন নারীকে সম্মান দিয়ে কথা বলা রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ভদ্রতা ও আচরণের অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনপ্রতিনিধিদের আচরণের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধিদের আচার-আচরণের দিকে নজর রাখেন। অথচ কুষ্টিয়া অঞ্চলের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা তাকে ও তার দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে অত্যন্ত অপ্রীতিকর কটূক্তি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিরোধী ও সরকারি দলের প্রতিনিধিদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, তিনি একজন বয়স্ক নারী এবং সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৭ জন নারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেনেশুনে কেন তার বিষয়ে এ ধরনের কটূক্তি করা হয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, সবাইকে সম্মান করা উচিত।
নিজের দলের ওপর বিষয়টির বিচারভার ছেড়ে দিয়ে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, তাকে এবং তার দলের নেতৃত্বকে তাচ্ছিল্য ও অপমান করার ঘটনায় উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাচ্ছেন তিনি। দলের অনুমতি পেলে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে মানহানির মামলা করবেন।
এদিকে ফরিদা ইয়াসমিনকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও কটূক্তিমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। একইভাবে সন্ধ্যায় ভেড়ামারা উপজেলাতেও ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলায় একটি সভায় মুফতি আমির হামজার দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। ওই বক্তব্যে তিনি কুষ্টিয়ার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনকে উদ্দেশ করে বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের সাংবিধানিক গুরুত্ব নেই এবং তারা সরাসরি কোনো ভোট পাননি।
তিনি আরও বলেন, তিনি ১ লাখ ৮৩ হাজার ভোট পেয়েছেন। বিপরীতে ফরিদা ইয়াসমিন কোনো ভোট পাননি বলেও মন্তব্য করেন। তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও সাংবিধানিকভাবে কোনো গুরুত্ব নেই এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় এ ধরনের কোনো সিস্টেম নেই বলেও বক্তব্য দেন তিনি। এছাড়া ফরিদা ইয়াসমিনকে উদ্দেশ করে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে।
ওই সভায় কুষ্টিয়ার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলেন মুফতি আমির হামজা। তিনি অভিযোগ করেন, ডিসি অফিসে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পাশ কাটিয়ে বিশেষ কোনো পক্ষকে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের পছন্দের মানুষকে বাদ দিয়ে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে নিয়ে এলাকা পরিচালনার চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণকে বিষয়টি জানানো হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে মুফতি আমির হামজার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মন্তব্য করুন