
সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের চাকুলিয়া গ্রামে আগামী ২৬ ও ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ওরস বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’। এ দাবিতে গত রবিবার উপজেলা প্রশাসন ও সাভার মডেল থানায় বিক্ষোভের পর স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতারা।

স্মারকলিপিতে ওরস বন্ধের পাশাপাশি আয়োজক কাজী জাবের আল-জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ‘ইসলামবিরোধী’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
চাকুলিয়া গ্রামে মাওলানা কাজী আফসার উদ্দিন আল-জাহাঙ্গীর আল-সুরেশ্বরীর মাজার এবং তাঁর ছেলে জাবের আল-জাহাঙ্গীরের বাড়িতে বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ১৯ বছর ধরে এই ওরস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে এবারের আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে স্থানীয় আলেম ও ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত ও যুবদলের কয়েকজন নেতাও স্বাক্ষর করেছেন।
খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানী বলেন, জাবের আল-জাহাঙ্গীরের কিছু বক্তব্য কোরআন ও হাদিসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান চান তারা।
হেফাজতে ইসলাম ঢাকা জেলা উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম বলেন, স্থানীয় মুসল্লি ও আলেমরা বিষয়টি তাদের জানিয়েছেন। ইসলামী বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড হলে তার বিরুদ্ধে কথা বলা প্রয়োজন বলেই তারা প্রশাসনের কাছে গেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওরসের আয়োজক জাবের আল-জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ধর্মীয় বিষয়ে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলো মিথ্যা।
কারও আপত্তি থাকলে প্রশাসনের উপস্থিতিতে আলোচনায় বসতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানান। জাবের বলেন, এ বছর বাড়ির সীমানার মধ্যেই ওরস অনুষ্ঠিত হবে। বাইরে কোনো প্যান্ডেল বা মাইক ব্যবহার করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তার বাড়িতে হামলার ঘটনায় পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজন আহত হন। ওই সময় বাড়ি ও যানবাহনে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তিনি পাল্টা মামলাও করেন।
এবার ওরসকে কেন্দ্র করে ফের হামলার আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান জাবের।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে জাবেরদের বাড়িতে হামলার অভিযোগে তাঁর ভাই কাজী গোলাম রাসুল মামলা করেন। মামলার এজাহারে প্রায় ৫০০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়া, বাড়িঘর ও যানবাহনে ভাঙচুর, লুটপাট এবং মাজার ভাঙচুরের চেষ্টার অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনায় ২০ থেকে ২৫ জন আহত হওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন