
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে আজ সোমবার থেকে নতুন করে আলোচনা শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এখন আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নিচ্ছি। আগামীকাল (সোমবার) বিকেল থেকে আলোচনা শুরু হবে।” তবে আলোচনা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ট্রাম্পের মতে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে দুই দেশের বিরোধের অন্যতম প্রধান ইস্যু। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরেই আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসানও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে একটি নতুন নৌপথ চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে তারা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে এর মধ্যেই রোববার প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের আলোচনার ঘোষণার পর সোমবার এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৭২ ডলারে নেমে আসে।
চলমান সংঘাতের সূচনা হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর থেকেই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতে কয়েক দফা কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। জুনে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরে তা ভেঙে গেলে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়।
গত শুক্রবার ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক সামরিক হামলার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তবে শনিবার সেই পরিকল্পনা স্থগিত করে তিনি আলোচনার পথেই এগোনোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাঁর দাবি, দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক কাঠামো ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্ররা তাঁকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। তাঁর দাবি, পরিকল্পিত হামলা বাস্তবায়িত হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান হতো।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ট্রাম্পের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, তেহরান কখনোই ট্রাম্পকে হামলা থেকে বিরত থাকার কোনো অনুরোধ জানায়নি।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ও আইনপ্রণেতা হাসান ঘাশঘাভি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়; বরং একটি বৃহত্তর চুক্তির পথে মধ্যবর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত। ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত কিছু বিধানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ঘাশঘাভির ভাষায়, “বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। তাই এ বিষয়ে মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।”
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “আমাদের এমনভাবে চেষ্টা করতে হবে, যাতে প্রতিপক্ষকে তারা যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে বাধ্য করা যায়।”
মন্তব্য করুন