
রংপুরের আলোচিত গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারী দল। দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা ১০ মিনিটে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলীর নেতৃত্বে উপপরিদর্শক মমিনুল ইসলাম ও আবু সাঈদ বাবলা জেলগেটে যান। সেখানে তারা দুই আসামিকে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে জেলগেট থেকে বেরিয়ে আসেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি তারা।
তবে বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ জানান, আদালতের দেওয়া জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতির শেষ দিন ছিল বুধবার। দুই দিনে আসামিদের কাছ থেকে মামলার তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখব। মামলার তদন্তের কোনো সীমা নেই। তদন্তের প্রয়োজনে যতটা গভীরে যাওয়া দরকার, আমরা সেটাই করব। সংগৃহীত তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে যা যা করণীয়, সবই করা হবে।’
এর আগে মঙ্গলবারও দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারী দল। ওই দিন সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা কিছু জানাননি।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুরের নিজবাড়ি থেকে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর ম*র*দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইয়াবা সেবনের পর ওই চারজনকে হ*ত্যা করা হয়েছে। হ*ত্যা*কাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে এ-সংক্রান্ত আলামত পাওয়ার কথাও জানায় পুলিশ।
পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই আসামির ডোপ টেস্ট করা হয়। তবে পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এরপর আসামিদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি না পাওয়ায় গত ৩১ আগস্ট তদন্তের স্বার্থে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিন্নাত আলী। তবে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে জেলগেটে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। সেই অনুমতির ভিত্তিতেই দুই দিনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করেছে তদন্তকারী দল।
মন্তব্য করুন