
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জাতিসংঘের প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটিকে আলোচনার প্রধান মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন ড. খলিলুর রহমান।
শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তার প্রধান লক্ষ্য হবে জাতিসংঘের প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা ও সহযোগিতা আরও বাড়ানো। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটের সমাধানে জাতিসংঘকে কার্যকর আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন তিনি।
জাতিসংঘের সংস্কারের মাধ্যমে সংস্থাটির প্রতি সব দেশের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাও নিজের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গও উঠে আসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে। ‘যাদের রাষ্ট্র নেই, তাদের কথা কে বলবে’—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, যার দেশীয় পরিচয় নেই, জাতিসংঘ তাদেরও।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এক ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি জাতিসংঘের প্রতিনিধিত্ব করছেন; দ্বিপাক্ষিক কোনো বিষয় নিয়ে নয়।
এর আগে গত ২ জুন গোপন ব্যালটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। নির্বাচনে তিনি ৯৯ ভোট পান। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকুরিস পেয়েছিলেন ৯১ ভোট।
ড. খলিলুর রহমানের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সময়ই জাতিসংঘের আরেক গুরুত্বপূর্ণ পদ মহাসচিব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে অন্যান্য অধিবেশনের সভাপতিদের তুলনায় তার দায়িত্ব কিছুটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন সংকট, জাতিসংঘের সংস্কার এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তার মেয়াদে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
মন্তব্য করুন