
ডিজিটাল বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এসব কমপ্লেক্স শুধু সরকারি তথ্য প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিল্প-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্যসহ দেশের তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ, ডিজিটাল লাইব্রেরি, বিনোদন এবং তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে।
রোববার দুপুরে বরিশাল নগরের কাশীপুর এলাকায় বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।
স্থাপত্য ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রায় ১৭ কোটি ৬৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে বরিশালে তথ্য কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হবে।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে সাত তলাবিশিষ্ট সাতটি এবং ১৯টি জেলা শহরে পাঁচ তলাবিশিষ্ট ১৯টি তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থাপনার মাধ্যমে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সরকারি তথ্য প্রচার ও সংরক্ষণ, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর। প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির সম্ভাবনা পরিবর্তিত ও বিস্তৃত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে তরুণদেরও নতুন প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে এবং তাঁদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বরিশালের তথ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিক ও বহুমুখী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই তথ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হবে না উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের সরকার এসব কার্যক্রমকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে চায়। অবকাঠামোর পাশাপাশি সফটওয়্যার, প্রযুক্তি এবং জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি জানান, একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তথ্য কমপ্লেক্সগুলোকে যুক্ত করা হবে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ একই তথ্যভান্ডারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তথ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বড় ডেটা সেন্টার ও আধুনিক প্রযুক্তি ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় দেশে তথ্যের সংকট ছিল। এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়ে তথ্যের অবাধ ও ব্যাপক প্রবাহ তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মুহূর্তেই বিপুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। তাঁর মতে, তথ্যের এই বিশাল প্রবাহ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ; তবে তা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল জলিল, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি জুলফিকার আলী হায়দার, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন এবং মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্।
মন্তব্য করুন