চট্টগ্রামে চলমান গ্যাস সংকট জনজীবনে চরম ভোগান্তি তৈরি করেছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে রাতভর লাইনে দাঁড়িয়েও চালকেরা মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার গ্যাস পাচ্ছেন। ফলে অধিকাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাস সড়কে নামতে পারছে না।

এতে যানবাহনের সংকট আরও তীব্র হয়েছে এবং যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ সুযোগে নগরীর বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
শুধু পরিবহন খাতই নয়, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে নগরীর বাসাবাড়িতেও। দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার গভীর রাতে গ্যাস এলে তখনই রান্না করে রাখছেন।
বহদ্দারহাট খতিবের হাট এলাকার বাসিন্দা আফরোজা স্বপ্না জানান, গত দুই দিন ধরে তাদের বাসায় রান্নার গ্যাস নেই। তিনি বলেন, “বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে হালিশহর বড়পোল এলাকার একটি রেস্তোরাঁর এক কর্মী বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে বাসাবাড়িতে রান্না কম হচ্ছে। ফলে আমাদের দোকানে বিক্রি বেড়ে গেছে।”
সোমবার নগরের অক্সিজেন, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, কর্ণফুলী, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, গভীর রাত থেকেই গাড়ির দীর্ঘ সারি। অনেক চালক দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস সংগ্রহ করতে পারেননি।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, “অক্সিজেন এলাকার ফিলিং স্টেশনে সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে সকালে মাত্র ৩০০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এই দিয়ে গাড়ি চালিয়ে মালিকের জমাও উঠবে না।”
গ্যাস সরবরাহে এই সংকটের পেছনে রয়েছে কক্সবাজারের মহেশখালীতে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জি কোম্পানির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড। ওই ঘটনার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। বর্তমানে বিকল্প টার্মিনাল থেকে সরবরাহ চালু থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানিয়েছে, দৈনিক প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে রোববার সরবরাহ ছিল মাত্র ১৯ কোটি ঘনফুট।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে সড়কে অর্ধেকেরও বেশি সিএনজিচালিত যান চলাচল করতে পারেনি। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
ষোলশহর ২ নম্বর গেইট থেকে নিউমার্কেটগামী বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেও কোনো খালি সিএনজি অটোরিকশা পাইনি। শেষ পর্যন্ত কিছুদূর টেম্পোতে, কিছুদূর রিকশায় করে এসেছি। অফিসে আসতে দেরি হয়ে গেছে।”
একই চিত্র দেখা গেছে আগ্রাবাদ মোড়েও। বাসে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় জাকির হোসেন সড়কের এমইএস কলেজে যেতে শেষ পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ব্যবহার করেন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাকিল। এ জন্য তাকে দেড়শ টাকা ভাড়া গুনতে হয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামের পরিবহন ব্যবস্থা, নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবায় এই দুর্ভোগ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন