বগুড়ার সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর বড় বালুয়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে ইউসুফ (৭) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইউসুফ বড় বালুয়া এলাকার উজ্জল হোসেনের পুত্র, তিনি পেশায় একজন বাসের হেলপার। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এরই মধ্যে শিশুটির বাড়িতে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তির আসা এবং পরদিন থেকে তার নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন শিশুটির বাড়িতে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি বেড়াতে এসেছিলেন। এরপর থেকেই ইউসুফকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে সোনাতলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির বাবা। নিখোঁজের তিন দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে বড় বালুয়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে শিশুটি কীভাবে নিখোঁজ হলো এবং তার মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বালুয়াহাট বাজারের এক মুদি দোকানি জানান, শিশুটির বাড়িতে কয়েকজন লোক এসেছিলেন। তারা কারা, জানতে চাইলে শিশুটির মা তাদের চেনেন না বলে জানান। অপরিচিত ব্যক্তিদের বাড়িতে খাওয়ানোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে দাবি করেন ওই দোকানি। তবে ওই ব্যক্তিরা কারা ছিলেন, কেন এসেছিলেন এবং শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউসুফ বালুয়াহাট বাজারের বিভিন্ন দোকানে পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এনে দিয়ে সহযোগিতা করত। ছোট্ট শিশুটির এমন সহযোগিতার বিনিময়ে বাজারের দোকানিরা তাকে ৫ থেকে ১০ টাকা করে দিতেন। এভাবেই বাজারের দোকানিদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিল ইউসুফ। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শিশুটির বাড়িতে আসা অপরিচিত ব্যক্তিদের পরিচয়, তার নিখোঁজ হওয়ার পরিস্থিতি এবং ধানক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সবকিছুই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তদন্তের আগে এসব ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন