
রাজধানীর মিরপুরে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের দুই নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তারা হলেন যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সহসম্পাদক মো. মোতাহার হোসেন খান (৫৮) ও কর্মী মো. আবু জাফর (৪৬)।

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম আল সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে দুই আসামিকে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং মামলার তদন্ত এখনো চলছে। জামিনে মুক্তি পেলে তারা পলাতক হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার আসামি মোতাহার হোসেন নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাঈনুল হোসেন খান নিখিলের আপন ছোট ভাই।
পুলিশ জানায়, মোতাহার হোসেনকে ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর মডেল থানার ৬০ ফুট ভাঙ্গারীজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর আবু জাফরকে ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচে টেকনিক্যালগামী অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বাসটির পেছনের কয়েকটি আসন, ফ্যানসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের সময় বাসটিতে থাকা ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী দ্রুত নেমে নিজেদের রক্ষা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে দারুসসালাম ও শাহ আলী মাজারের দিকে পালিয়ে যান। আসামি সুফলের নির্দেশ ও প্ররোচনায় অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন