
সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। একই দাবিতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার না পেয়ে এক পরিবেশকের গুদামে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ভূরুঙ্গামারীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। অন্যদিকে, ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর বাজারে বাংলাদেশ এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন গোডাউনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সার বিতরণের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে অবরোধ তুলে নেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, টাকা দিয়েও সময়মতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা বাজার ও ডিলার পয়েন্টেও সার না পাওয়ায় আমন আবাদ ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক রাসেদুল হক প্রধান বলেন, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। সকালে বৃষ্টি হওয়ায় সার বিতরণে কিছুটা দেরি হয়েছিল। এতে কৃষকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে সার বিতরণ শুরু করা হয়।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বাজারে সার দিতে দেরি হওয়ায় রোববার এক পরিবেশকের গুদামে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকরা জানান, সার নেওয়ার জন্য সকাল ৭টা থেকেই কচাকাটা বাজারের কাশেম ট্রেডার্সের সামনে তারা জড়ো হতে থাকেন। কিন্তু সকাল ৮টার পরও পরিবেশকের লোকজন না আসায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেখানে প্রায় ২০০ কৃষক জড়ো হন। সকাল ৯টার দিকে হইচই শুরু হলে কয়েকজন গুদামের টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন।
কচাকাটা থানার ওসি অর্পণ কুমার দাস বলেন, গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত ছিল। পরিবেশক কিছুটা দেরিতে আসায় কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সার বিতরণ করা হয়।
এদিকে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের মিলনবাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। এতে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক সেখানে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির ডিলার পয়েন্টে সার মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত শনিবার বিকেলে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের স্বাক্ষরে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সোমবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত কমিটির সদস্যরা প্রতিবেদন দেবেন। তদন্তের সুপারিশের ভিত্তিতে ডিলারশিপ বাতিলের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শোকজ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন