
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে জোর তৎপরতা চলছে। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। যেকোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে।

নতুন কমিটির শীর্ষ পদে ডজনখানেক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলে সক্রিয় নেতাদের কয়েকজনকে নিয়ে আলোচনা তুলনামূলক বেশি। নেতাদের বয়স বিবেচনায় ২০০৯-১০ সেশন থেকে ২০১২-১৩ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ছাত্রদল নেতাদের মধ্য থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব বাছাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় কমিটি এসব সেশনের নেতাদের নিয়ে গঠন করা হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটিগুলোতে রানিং শিক্ষার্থীদেরই নেতৃত্বে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৯-১০ সেশন থেকে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, আরিফুল ইসলাম এবং প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভর নাম শীর্ষ নেতৃত্বে আলোচনায় রয়েছে।
তবে সবদিক বিবেচনায় আমানউল্লাহ আমানের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
অন্যদিকে ২০১০-১১ সেশন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র সাহস এবং সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকের নামও আলোচনায় রয়েছে।
তবে বিএনপির অনেক নেতা তুলনামূলকভাবে আরও জুনিয়র নেতাদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে মত দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদে এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ২০১১-১২ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নেতারা।
এই তালিকায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নাছির উদ্দিন শাওন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান রনি, যুগ্ম সম্পাদক মো. রাজু আহমেদ, গাজী মো. সাদ্দাম হোসেন, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স এবং তারেক হাসান মামুনসহ আরও কয়েকজন।
এদের মধ্যে নাছির উদ্দিন শাওনের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে গিয়ে তিনি একাধিকবার ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও তিনি সামনের সারিতে ভূমিকা রাখেন। বিএনপির হাইকমান্ডও তার বিষয়ে অবগত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া নাহিদুজ্জামান শিপন ও মো. রাজু আহমেদের নামও নতুন কমিটির শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছে।
তুলনামূলক কম বয়সী নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় থাকায় ২০১২-১৩ সেশনে ভর্তি হওয়া ছাত্রদল নেতারাও শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন।
এই সেশনের আলোচিত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, যোগাযোগ সম্পাদক আরিফ হাসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আলম ভূইয়া ইমন।
তৌহিদুল ইসলাম ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনের সময় ছাত্রলীগের হামলার মুখেও তিনি সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অন্যদিকে নুর আলম ভূইয়া ইমন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
নতুন কমিটি গঠন নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তাদের মতে, নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
এর পাশাপাশি ছাত্রসমাজের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং নতুন প্রজন্মের ভাবনা ও প্রত্যাশা বোঝার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তাদের মতে, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
ফলে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্য থেকে কারা শেষ পর্যন্ত ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে আসছেন, এখন সেদিকেই নজর সংগঠনটির নেতাকর্মীদের।
মন্তব্য করুন