
নোয়াখালীর চাটখিলে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও এক গ্রাহকের অক্টোবর মাসের বিল এসেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। অস্বাভাবিক এ বিল দেখে হতবাক হয়ে পড়েন গ্রাহক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে মিটার যাচাই করে প্রকৃত বিল নির্ধারণ করেন পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম)। এ ঘটনায় ভুল বিল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা মমতাজ বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
ভুক্তভোগী গ্রাহক শহিদুল ইসলাম রনি চাটখিল উপজেলার ৪ নম্বর বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা।
শহিদুল ইসলাম রনি জানান, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর প্রায় দুই বছর আগে তিনি দেশে ফেরেন। বর্তমানে নিজ গ্রামে ছোট একটি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাঁর ব্যবহৃত বিদ্যুৎ মিটারটি দাদা আবু তাহেরের নামে নিবন্ধিত।
তিনি বলেন, তাঁর ঘরে দুটি সিলিং ফ্যান, একটি ফ্রিজ, পাঁচটি লাইট ও একটি আইপিএস রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ১ হাজার ৮৬০ টাকা। সাধারণত প্রতি মাসে তাঁর বিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু অক্টোবর মাসে হঠাৎ ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকার বিল আসায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহেলায় গ্রাহকদের এমন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রনি। এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তদারকি বাড়ানোর জন্য তিনি ডিজিএমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে খবর পেয়ে সোমবার রাত ১০টার দিকে গ্রাহকের বাড়িতে যান চাটখিল পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম জুনায়েদুর রহমান। মিটার যাচাই শেষে তিনি প্রকৃত বিল ১ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেন।
ভুল বিলের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে উপস্থিত লোকজনের কাছে ক্ষমা চান ডিজিএম। তিনি জানান, ভুলবশত অতিরিক্ত বিল তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল যেন আর না ঘটে, সে বিষয়েও তিনি আশ্বাস দেন।
ডিজিএম আরও জানান, ভুল বিল প্রস্তুতের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মমতাজ বেগমকে মঙ্গলবার সকালে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন