
শেরপুরের নকলা উপজেলায় নদীতে ডুবে যাওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে লামিয়া আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর মৃ*ত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার যমজ বোন সামিয়া আক্তার প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চরমধুয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নি*হ*ত লামিয়া আক্তার ওই গ্রামের সেলিম রেজার মেয়ে। সে চরমধুয়া বিদ্যানিকেতনের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে লামিয়া ও তার যমজ বোন সামিয়া বাড়ির পাশের নদীতে গোসল করতে যায়। এ সময় তারা সিজদা (৮) নামে এক শিশুকে নদীর পানিতে ডুবে যেতে দেখে।
শিশুটিকে বাঁচাতে কোনো কিছু না ভেবেই দুই বোন পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা প্রাণপণ চেষ্টা করে সিজদাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে শিশুটিকে পানি থেকে তোলার সময় লামিয়া নিজেই পানিতে ডুবে যায়।
পরে স্থানীয়রা অনেক চেষ্টা করে লামিয়াকে উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃ*ত ঘোষণা করেন।
এদিকে লামিয়ার যমজ বোন সামিয়া আক্তার ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যায়।
একই সঙ্গে জন্ম নেওয়া দুই বোনের একজনের এমন মর্মান্তিক মৃ*ত্যু*তে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শোকের আবহ বিরাজ করছে পুরো এলাকাজুড়েও।
স্থানীয়রা জানান, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্য একটি শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে লামিয়ার মৃ*ত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তার সাহসিকতা ও মানবিকতার কথা স্মরণ করে এলাকাবাসী শোক প্রকাশ করেছেন।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন