যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা আজ সোমবার শুরু হবে। তবে সম্ভাব্য সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। একই সঙ্গে আলোচনার স্থান কিংবা অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়ও প্রকাশ করেননি তিনি।

নিউ জার্সিতে সপ্তাহান্তের সফর শেষে রোববার ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সোমবার বিকেল থেকেই আলোচনা শুরু হবে। তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
এর আগে শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। তাঁর মতে, সেই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দ্রুত, সম্পূর্ণ এবং নিঃশর্তভাবে আবার উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সৃষ্ট হুমকিরও অবসান ঘটবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ জন্য তেহরানকে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
সাংবাদিকরা ইরানের জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প সরাসরি উত্তর দেননি। পরিবর্তে তিনি বলেন, “আমি বরং একটি চুক্তি করতে চাই। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। যুদ্ধে অনেক মানুষের প্রাণ যায়, আর আমরা সেটা চাই না।”
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার হামলা আরও জোরদারের হুমকি দিয়েছেন। তবে প্রতিবারই শেষ মুহূর্তে আলোচনার সুযোগ দিতে হামলা স্থগিত করেছেন। যদিও এ পর্যন্ত কোনো আলোচনাই পূর্ণাঙ্গ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকির মধ্যে ট্রাম্পের এই অবস্থান সংঘাত প্রশমনের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ছাড়িয়ে মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্বল্পমেয়াদে জ্বালানির উচ্চমূল্য মেনে নেওয়া যেতে পারে। তবে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ তাঁর প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে, যা সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো করেছে।
এদিকে ট্রাম্পের আলোচনার ঘোষণার পর সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে পৃথকভাবে কথা বলেছেন। তবে ওই আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মন্তব্য করুন