
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মোটরসাইকেল থামিয়ে জাহেদুল ইসলাম (৩৩) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ১২ এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে এবং হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে মামলার ১০ আসামি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার দিবাগত রাতে পৃথক অভিযানে চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকা থেকে প্রথমে দুজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপির সংগঠক মো. জসিম উদ্দিন ওরফে মিষ্টি জসিম, উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রদল নেতা জয়নাল আবেদীন মানিক, পুরানগড় ইউনিয়ন যুবদলের সংগঠক মোহাম্মদ রিদোয়ান ইসলাম, টিপু ওরফে মিষ্টি টিপু, আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ, আব্দুল্লাহ আল তুষার, খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক, মো. রবিউল হোসেন রবি, আবুল কাশেম ওরফে লইট্ট্যা কাশেম, হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব, মো. আজাদ ও মো. হেলাল। এ মামলায় জসিম উদ্দিন প্রধান আসামি।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর ৩ সেপ্টেম্বর রাতে নিহত জাহেদুলের মা মনোয়ারা বেগম সাতকানিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় জসিম উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার এজাহারভুক্ত ১৩ আসামির মধ্যে মো. সাজ্জাদ ছাড়া বাকি সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে মো. আজাদকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, অন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, তাঁদের দেওয়া জবানবন্দি এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অবশিষ্ট আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত জাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন আইনে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।
মন্তব্য করুন