
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেলেও একটি গুলি পিঠের মাংসপেশিতে আটকে ছিল। শুক্রবার নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় ওই বুলেটটি উদ্ধার করা হয়।

ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নিহত সাংবাদিকের বুকে তিনটি গুলির আঘাত ছিল। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। অপরটি পিঠের দিকের মাংসপেশিতে আটকে ছিল, যা ময়নাতদন্তের সময় বের করা হয়েছে।
চিকিৎসক আরও জানান, বাকি তিনটি গুলির মধ্যে একটি কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। আরেকটি মাথার ওপরের অংশের চামড়া ঘেঁষে চলে যায়। অন্য গুলিটি ডান কাঁধের চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
গুলির ক্ষত বিশ্লেষণ করে শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ বলেন, শরীরে গুলির প্রবেশ ও বের হওয়ার চিহ্ন পর্যবেক্ষণে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খুব কাছ থেকে সামনে দিক লক্ষ্য করে আলিফকে গুলি করা হয়েছিল।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল এলাকার তেলনজিয়া গ্রামে একটি চায়ের দোকানের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। সেখানে দুই অস্ত্রধারী যুবক সাংবাদিক আলিফকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায়।
নিহত লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ বেসরকারি আইপিটিভি ‘চ্যানেল রূপসী বাংলার’ নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে সীমান্ত এলাকার মাদক, চোরাচালান, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রকাশ করতেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, আলিফের মাথা, ঘাড় ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির ক্ষত রয়েছে। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আলিফকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তীরে তেরিবাজার ঘাটের কাছে হামলার শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিক আলিফ। সেবার অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় তাঁর এক সহকর্মী এগিয়ে এলে তাঁকেও অস্ত্র দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
মন্তব্য করুন