
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্নাইপার দিয়ে গুলি করার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার আবু বকর সিদ্দিককে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন। আদালতে আবু বকর দাবি করেন, তিনি মজা করেই মন্তব্যটি করেছিলেন; এর পেছনে তার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

আবু বকর সিদ্দিক রাজশাহীর নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত বুধবার গভীর রাতে রাজশাহীর পবা থানার কচুয়াতৈল এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার দেখায়। শুক্রবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
একই দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন পাইক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করা হয়। নির্ধারিত দিনে আবু বকরকে আদালতে হাজির করা হলে তার উপস্থিতিতেই রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এ সময় বিচারক আসামির রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পরে বিচারক আবু বকর সিদ্দিকের পরিচয় জানতে চান। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি হাত তুলে নিজের পরিচয় দেন। তার কোনো আইনজীবী আছেন কি না, জানতে চাইলে আবু বকর জানান, তার পক্ষে কোনো আইনজীবী নেই।
রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফরকালে একটি বাসে করে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। ওই সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে আসামি স্নাইপার-সংক্রান্ত মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, বিষয়টিকে নিছক সাধারণ মন্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কোনো বিষয় রয়েছে কি না এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়।
শুনানির একপর্যায়ে বিচারক আবু বকরকে প্রশ্ন করেন, তিনি কেন এমন মন্তব্য করেছেন। জবাবে আবু বকর বলেন, তিনি এমনিতেই মন্তব্যটি করেছিলেন, এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। মজা করেই কথাটি লিখেছিলেন বলে জানান তিনি। তখন বিচারক বলেন, একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নিয়ে এমন সংবেদনশীল বিষয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা উচিত কি না। জবাবে আবু বকর নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, তার ভুল হয়ে গেছে। পরে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার সূত্রপাত রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে বাসটির ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘সবই বুঝলাম রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই, রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কি জানেন রাজশাহীবাসী?’
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’ মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মানিক হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন।
গত ২০ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে তিনি নগরীতে প্রবেশ করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান। চলন্ত বাস থেকে হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে ওই বাসে করেই ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত একটি সমাবেশে যোগ দেন তিনি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি মন্দির পরিদর্শন শেষে একই বাসে করে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন