
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগের বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেওয়ায় দলটির বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের এক মাস না যেতেই জামায়াতের আমির আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা করে দেন। তার দাবি, মূলত ভোটের রাজনীতির কারণেই আওয়ামী লীগের প্রতি এমন নমনীয়তা দেখানো হয়েছে। আর এর ফলে আওয়ামী লীগের বিচারপ্রক্রিয়ার পথে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগকে ‘নরমালাইজড’ করা হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতারা বলতে শুরু করেন, আওয়ামী লীগ করা ব্যক্তিরা জামায়াতে যোগ দিলে তাদের দায়দায়িত্ব নেওয়া হবে। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ও গোপনে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী জামায়াতে যোগ দেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খানের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংককে নিজেদের পক্ষে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই জামায়াত আওয়ামী লীগের অপরাধীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করেনি। তার মতে, অপরাধের বিচার না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে সাম্প্রতিক আচরণে সেই বেপরোয়া মনোভাবের প্রতিফলন দেখা গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এখন শুধু সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। জামায়াত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের মাধ্যমে ভোটব্যাংক বাড়ানোর চেষ্টা করলেও দলটি কখনো রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারলে সবার আগে জামায়াতের বিরুদ্ধেই প্রতিশোধ নেবে বলে দাবি করেন রাশেদ খান।
এ কারণে জামায়াত ও এনসিপির প্রতি আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী ও নেতাদের কাছ থেকে লংমার্চ বা অন্যান্য কর্মসূচির জন্য অর্থ ও প্রাডো গাড়ি নেওয়ার মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসন বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ জাতির শত্রু এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের অপরাধীদের বিচারের জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐক্য প্রয়োজন। তার দাবি, গণঅভ্যুত্থানের পরপরই জামায়াতের আমির আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করায় বিচারের পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এ অবস্থায় জামায়াতের আমিরের জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খান আরও বলেন, বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের বিচার করবে। তবে জামায়াত যদি ভোটের রাজনীতির কারণে আড়ালে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা করে, তাহলে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ আবারও রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ফিরে আসতে পারে।
মন্তব্য করুন