
কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ অভিযানে মোট ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লা নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর চারজন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯) গ্রুপটির ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে পুলিশের দাবি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কুমিল্লা মহানগরসহ বিভিন্ন থানা এলাকার যেসব স্থানে উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, কোতোয়ালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা রয়েছে, সেসব এলাকাকে কেন্দ্র করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ৩৭ জনের মধ্যে চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাদের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯)। তিনি নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। আনিক আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’-এর প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগ্নে।
পুলিশ আরও জানায়, রতন বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় আনিক গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি গ্রুপটির ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে রয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। আটক অন্য তিনজনও রতন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে।
এর আগে গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
মন্তব্য করুন