
অটোরিকশাচালকদের কর্মসংস্থান অক্ষুণ্ন রেখে ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত নতুন নীতিমালা ও বিধিমালা কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

নতুন নীতিমালার আওতায় প্রতিটি অটোরিকশায় কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে একটি নম্বরের বিপরীতে অবৈধভাবে একাধিক অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি লেড-এসিড ব্যাটারির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের পাশাপাশি নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক রিকশা চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইক ও তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান গ্রাম ও শহরের পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
কম খরচে সহজ যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ যেমন উপকৃত হচ্ছেন, তেমনি চালক, গ্যারেজ শ্রমিক, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও চার্জিং সেবাদাতাদের নিয়ে বড় ধরনের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
তবে এসব যানবাহনের দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও রাজস্ব ক্ষতির প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যান দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে।
তিনি জানান, সারাদেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। অন্যদিকে, শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৪৮ হাজার অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট চালু রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে প্রতিবছর সরকারের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযান ও ডাম্পিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এ ছাড়া ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির যৌথ অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে বলেও জাতীয় সংসদে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন