
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

রোববার (৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ব্যাপারটি আমার নলেজে নেই।’
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপির একটি সূত্রের দাবি, দলটির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই প্রথম পছন্দ। ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটারদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। তবে মির্জা ফখরুলের নাম নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে এখনো দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া মির্জা ফখরুল ১৯৯১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরপর ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৯১ সালের পঞ্চম এবং ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে পিছিয়ে যাননি। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল।
সংসদ সদস্য হওয়ার পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায়ও জায়গা পান তিনি। প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এসব দায়িত্বে ছিলেন।
এরপর ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে পরাজিত হন মির্জা ফখরুল। নির্বাচনে পরাজয়ের পরও বিএনপির রাজনীতিতে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে থাকে।
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। পরের বছর, ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন।
পরে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে ভারমুক্ত হয়ে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। এখন পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে রয়েছেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ আগস্ট।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সামনে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত দলটি কাকে মনোনয়ন দেবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানানো হয়নি।
মন্তব্য করুন