
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একাধিক নাম আলোচনায় থাকলেও বর্তমানে চার নেতার নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সঙ্গে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
আলোচনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম থাকলেও তিনি রাষ্ট্রপতি হতে রাজি নন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খানের নামও এখন আর আলোচনায় নেই বলে সরকারের ভেতরের একটি সূত্র দাবি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা প্রত্যেকেরই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রয়েছে। তার মতে, প্রত্যেক ব্যক্তির চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ, অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাদীক্ষা ভিন্ন হওয়ায় তাদের মধ্যে সরাসরি তুলনা করা কঠিন।
তিনি বলেন, আলোচনায় থাকা চারজনই অভিজ্ঞ, যোগ্য ও উচ্চশিক্ষিত। রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতাও তাদের রয়েছে। তার জানা মতে, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার সর্বোচ্চ বিবেচনাশক্তি প্রয়োগ করে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্ত করবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের মতে, এমন একজন ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি করা উচিত, যিনি দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রের মর্যাদা তুলে ধরতে সক্ষম।
তার ভাষ্য, বিএনপির চিন্তা, আদর্শ এবং প্রধানমন্ত্রী যে কমিটমেন্ট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন, সেগুলো বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকেও তারেক রহমানের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত।
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা চার নেতার প্রত্যেকেরই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দলের প্রতি আনুগত্য এবং নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে নানা আলোচনা ও মূল্যায়ন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা তারেক রহমান। ফলে এখন সবার দৃষ্টি তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের দিকে।
গত ১ আগস্ট বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাজনীতির পাশাপাশি ভূতত্ত্ববিদ, শিক্ষাবিদ ও লেখক হিসেবেও পরিচিত। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। দলটিতে যোগ দেওয়ার পর বিএনপির প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন ড. মোশাররফ। ১৯৯৪ সাল থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
দল পুনর্গঠন ও বিভিন্ন সংকটময় সময়ে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রবীণ এই নেতা সংকটের সময় কখনো দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এবং ওয়ান-ইলেভেনসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন। হাসিনা সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা হয়।
রাজনীতির পাশাপাশি তার একাডেমিক জীবনও সমৃদ্ধ। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে আরেকটি ডিগ্রি এবং ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্বে পিএইচডি অর্জন করেন। পরের বছর ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ডিআইসি ডিগ্রি নেন।
১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে জুনিয়র লেকচারার হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক হন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে প্রবাসীদের সংগঠিত করেন।
২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর অন্যতম সদস্য ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দলের প্রবীণ নেতা হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
দল ও দলের বাইরে তার দীর্ঘদিনের গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম আলোচনায় আসাকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বর্তমানে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ থাকায় তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নানা দিক বিবেচনা করতে হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নাম বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা ব্যাপকভাবে আলোচিত।
বিশেষ করে গত ১৭ বছরের কঠিন সময়ে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তার ভূমিকা দলের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দলের ভেতরে ও বাইরে তিনি সমান গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন।
পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবেও মির্জা ফখরুলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও পছন্দ ও স্নেহভাজন ছিলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
তিনবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এক-এগারোর আগে ও পরে নানা প্রচারণার কারণে বিএনপির ভাবমূর্তিতে সংকট তৈরি হলে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে মির্জা ফখরুলকে সামনে আনা হয়।
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দলের মুখপাত্র হিসেবে গণমাধ্যমে তার পরিচিতি আরও বাড়ে।
২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। পরে ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।
গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে তার বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা হয়েছে এবং ১১ বার কারাবরণ করেছেন তিনি। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, হাসিনা সরকারের সময় দল ভাঙার উদ্দেশ্যে তাকে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের প্রলোভনও দেওয়া হয়েছিল। তবে তাকে টলানো সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন।
তারেক রহমান লন্ডনে এবং বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময়ে দেশে বিএনপি ও আন্দোলনের দৃশ্যমান নেতৃত্বের অন্যতম মুখ ছিলেন মির্জা ফখরুল। এসব কারণেই বর্তমানে রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ও ড. খন্দকার মোশাররফের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও একাডেমিক পরিচিতি রয়েছে তার।
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে তিনি অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক অস্থিরতার বিভিন্ন সময়ে তার বাসায় বিদেশি কূটনীতিকদের বৈঠক করার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। সৎ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সুনাম রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ড. মঈন খান একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। পরে ইংল্যান্ডের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও ফেলোশিপও পেয়েছেন তিনি।
ইংল্যান্ডে পিএইচডি গবেষণার সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার বৃত্তি ও নাগরিকত্ব বাতিল করে। পরে ব্রিটিশ সরকারের বৃত্তির সহায়তায় উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যান। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফিরে পান।
রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ-সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন ড. মঈন খান। ২০০৯ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।
বিএনপির আন্দোলনের সময় পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিনের দলীয় আনুগত্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে তার নামও বিবেচনায় রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা আরেক নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হাফিজ উদ্দিন আহমদের কর্মজীবন রাজনীতি, সামরিক বাহিনী, ক্রীড়া ও জনপ্রশাসনজুড়ে বিস্তৃত।
তিনি একাধারে ফিফা-স্বীকৃত ফুটবলার, বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তা, সাতবারের নির্বাচিত সংসদ-সদস্য এবং একাধিকবারের মন্ত্রী। ছয় দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং সর্বশেষ দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় নানা চাপ ও প্রলোভনের মুখোমুখি হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি দলের সঙ্গে ছিলেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমে সংসদ-সদস্য পদে মনোনয়ন পান। পরে মন্ত্রী এবং সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন।
অনেকের মতে, রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণেই সংসদের স্পিকার হিসেবে হাফিজ উদ্দিনকে বেছে নিয়েছেন সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় রাষ্ট্রপতি পদেও তার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা চার নেতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় আনুগত্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা—সবকিছুই এখন মূল্যায়নের আওতায় রয়েছে।
কারও রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা, কেউ রাজনীতির পাশাপাশি একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত, আবার কেউ সামরিক, ক্রীড়া, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী।
তবে শেষ পর্যন্ত চারজনের মধ্য থেকে কাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপির এই চার নেতার মধ্য থেকেই কে চূড়ান্ত প্রার্থী হচ্ছেন, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।
মন্তব্য করুন