
দেশের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বাগেরহাটের রামপালে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটির সঙ্গে ৮ ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাও রাখা হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রামপালে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রামপালের ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাটারি স্টোরেজ যুক্ত করা হয়েছে। শুরুতে চার ঘণ্টার ব্যাকআপ রাখার পরিকল্পনা থাকলেও একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন ৮ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ রাখা হবে।
এদিনের একনেক সভায় নতুন ১০টি, সংশোধিত দুটি এবং মেয়াদ বৃদ্ধির একটি প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। অবশিষ্ট অর্থ প্রকল্প ঋণ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আসবে।
সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনার প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা।
রেলওয়েকে যুগোপযোগী করার পাশাপাশি সড়ক নির্মাণেও গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, সড়ক নির্মাণের পর তিন বছরের মধ্যে এর গুণগত মান নষ্ট হলে ঠিকাদারকেই এর দায় নিতে হবে—এমন নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন নতুন ও সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।
মন্তব্য করুন