
দু-একটা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সরকারের ওপর কোনো প্রভাব ফেলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার রাজধানীতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জনগণকে কষ্ট বা সংকটে ফেলার কোনো উদ্দেশ্য সরকারের নেই। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে লোকসান কমানোর চেষ্টা চলছে।
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ডিজেলে সরকারের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতো। সেই লোকসান কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশের বাজারে কেন দাম বাড়ানো হলো-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। সামনে তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে। তাই সরকার কতটা ভর্তুকি দিতে পারবে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে আগের সরকারের সময়কার অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে জাহেদ উর রহমান বলেন, হাসিনা সরকারের সময়ে এমন পরিস্থিতি হলে তিনি পদত্যাগের দাবি জানাতেন। কারণ, তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সরকার নির্বাচিত ছিল না।
তবে বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ওপর চাপ তৈরি হবে—এ বিষয়টি সরকারও বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় মানুষের পাশে সরকার রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর নিয়েও ব্রিফিংয়ে কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি জানান, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি শুরু হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হবে এবং কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর দেশের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সানফ্রান্সিসকো সফরে দলীয় একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তবে ব্যয় সাশ্রয় এবং দেশের চলমান সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সানফ্রান্সিসকোতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কোনো অনুষ্ঠান ছিল না; সেখানে দলীয় বা অন্য ধরনের একটি কর্মসূচি ছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কম সময়ের সফর হলে ব্যয়ও কম হবে।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশ বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে অবস্থান করাটাই এই মুহূর্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
বাংলাদেশের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বোয়িং কিনছে-এটি প্রকাশিত তথ্য। ফলে এ বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে যতটুকু জানা গেছে, তথ্য সে পর্যন্তই রয়েছে।
মন্তব্য করুন