
জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বুধবার তিনি পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগপত্র দেখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

পুতুল বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।
২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়।
এর আগে গত মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।
রয়টার্সের হাতে আসা ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের একটি চিঠিতে দেখা যায়, ডব্লিউএইচও পুতুলের বিরুদ্ধে চীন সফরের সময় আর্থিক জালিয়াতি এবং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুতুল।
আইনজীবীদের মাধ্যমে দেওয়া জবাবে তিনি দাবি করেন, নিয়মিত ভ্রমণ ব্যয় ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার।
নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে পুতুল জানান, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। বিষয়টি তিনি শুরু থেকেই ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালককে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে দেওয়া পদত্যাগপত্রে পুতুল আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে একটি প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও করেছে সংস্থাটি।
তবে এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। পুতুলের দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই ওই জমির মালিকানা তিনি পেয়েছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় তিনি ওই জমির অধিকারী হয়েছিলেন বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।
পদত্যাগপত্রে পুতুল বলেন, তিনি তার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আরও লেখেন, তাকে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে বাধা দেওয়ার কারণে ডব্লিউএইচওতে তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের নেতৃত্বের ওপর তার আর কোনো আস্থা ও বিশ্বাস নেই।
বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর কারণে প্রায় এক বছর কোনো বেতন না পাওয়ায় তার আর্থিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন পুতুল। এমন পরিস্থিতিতে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পুতুল এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে ডব্লিউএইচওও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, পুতুল ছুটিতে রয়েছেন। তবে গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে তার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় ডব্লিউএইচও।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আগেই করেছিল ডব্লিউএইচও।
একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করবে সংস্থাটি। এরপর ডিসেম্বরে আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে এবং ২৪ জানুয়ারি নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকরা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা, জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডব্লিউএইচওর নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো-বাংলাদেশ ও ভারতসহ-প্রতি পাঁচ বছর পর ভোটের মাধ্যমে এই পরিচালক নির্বাচন করে।
মন্তব্য করুন