
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনার পর থেকেই একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে-এই জোটের কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদেরও কি বাধ্যতামূলকভাবে যুদ্ধে জড়াতে হবে?

চুক্তিতে কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। এ কারণে চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার পর আক্রান্ত কোনো দেশের পক্ষে সামরিকভাবে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে চুক্তিতে নির্দিষ্টসংখ্যক সেনা, অস্ত্র বা যুদ্ধবিমান পাঠানোর মতো কোনো বিষয় নির্ধারিত আছে-বিষয়টি এমন নয়।
এ ক্ষেত্রে দুটি উদাহরণ সামনে এসেছে।
প্রথমত, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একই ধরনের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে সৌদি আরব ইরানের হামলার মুখে পড়লেও পাকিস্তানকে সৌদি আরবের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিতে হয়নি।
দ্বিতীয় উদাহরণ বাংলাদেশকে ঘিরে। গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের উদ্যোগে গঠিত একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষাই ওই জোটের অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু বাব আল-মান্দেবে হুতিদের হামলার ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশকে সেখানে যুদ্ধে অংশ নিতে বা সেনা পাঠাতে হয়নি।
মক্কা জোটের বিষয়ে তুরস্কের সমরবিশারদ ও হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক মুরাত আসলান বলেন, মক্কা প্যাক্ট মূলত একটি আত্মরক্ষামূলক চুক্তি। তাই এই জোটে যুক্ত হলেই যে কোনো যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে হবে, বিষয়টি তেমন নয়।
তার ভাষায়, মক্কা প্যাক্টকে শুধু সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বিষয়টি ভুলভাবে বোঝা হবে। এটি কোনো আক্রমণাত্মক জোট নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। এই জোটের নির্দিষ্ট কোনো শত্রু দেশও নেই।
অধ্যাপক মুরাত আসলান বলেন, জোটটির প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধ না হওয়া এবং একই সঙ্গে প্রত্যেক দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো।
মক্কা প্যাক্টকে এ পর্যায়ে ন্যাটোর মতো জোট হিসেবেও বিবেচনা করা ঠিক হবে না বলে মনে করেন মুরাত আসলান। তার মতে, ন্যাটোর মতো কোনো কমান্ড কাঠামো বা নিজস্ব সেনাবাহিনী মক্কা জোটে নেই।
তিনি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তির উদাহরণও তুলে ধরেন। তার মতে, সৌদি আরব ইরানের হামলার শিকার হলেও ওই চুক্তির কারণে পাকিস্তানকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হয়নি। তবে মক্কা জোটের চুক্তিতে ঠিক কী কী শর্ত রয়েছে, তার সবকিছু এখনো বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মুরাত আসলানের মতে, ভবিষ্যতে যদি এই উদ্যোগ একটি বৃহত্তর জোটে পরিণত হয় এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ে, তাহলে তা সম্ভাব্য হামলাকারীদের জন্য একটি নিরুৎসাহিতকারী শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
অর্থাৎ, মক্কা জোটে কোনো দেশ যুক্ত হলেই তাকে নির্দিষ্টসংখ্যক সেনা বা অস্ত্র নিয়ে অন্য দেশের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে হবে-এমন বাধ্যবাধকতা এখনই ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং চুক্তিটির মূল লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা।
মন্তব্য করুন