
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর ঘটনায় করা মামলায় আব্দুস সালাম (৫৬) নামে এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজশাহী নগরীর প্যারামেডিক্যাল এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি বলে জানা গেছে। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। ফুটেজে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকেই সরব হয়ে ওঠেন রামেবির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চিকিৎসকরা। বেলা পৌনে ১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সামনে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে উপাচার্যকে তার পদে পুনর্বহাল এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
পরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সামনে অবস্থিত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবারের ঘটনার পর বুধবার প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এমনকি হামলাকারীদের তালাও খোলা হয়নি। আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা দ্রুত কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
অবস্থান কর্মসূচিতে রামেবি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইনও উপস্থিত ছিলেন। তিনিও মঙ্গলবার জোর করে চাকরি থেকে ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।
নাজমুল হোসাইন বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে রাজপাড়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের বারবার হামলার ঘটনা বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।
মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও ওই মামলার পর আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবারের ঘটনায় রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের সভাপতি শরীফুজ্জামান শামীমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রবেশ করে। ওই সময় সেখানে রাজশাহী মহানগর বিএনপির ৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আল মোস্তাক শাহীন, মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামাল এবং জিয়া মঞ্চের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বুলবুল ও লাল্টু উপস্থিত ছিলেন বলে তারা দাবি করেন।
তবে এ বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন