
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চকে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকা এবং নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, কর্মসূচির মাধ্যমে আলোচনায় থাকার পাশাপাশি সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার বার্তাও দিতে চাইছে বিরোধী দলগুলো।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, মাঠের রাজনীতিতে বিএনপিরও আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, রাজপথের কর্মসূচির পরিবর্তে বিএনপি বর্তমানে অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তুলনামূলক বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। লংমার্চে বিরোধী নেতারা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
এই কর্মসূচিকে বিরোধীদের রাজনীতির মাঠে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, দাবি আদায়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক আলোচনায় নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে এটি লং রাইডও মনে হয় না, লং মার্চও মনে হয় না। আমার কাছে মনে হচ্ছে জাস্ট এখন আর রাজনীতিতে কোনো কর্মসূচি নেই, কর্মসূচিতে বিরোধীদলের ব্যাপারটা আমরা অনেকে খেয়াল করি নাই যে-আমাদের দেশের বিরোধীদলগুলো সবসময় রাজনীতিতে টিকে থাকতে চায়। মনে হচ্ছে রুলস অব গেম যেটা পাঁচ বছর পর পর ক্ষমতার পরিবর্তনের যে সিস্টেম আছে সেইটাকে সেভাবে মান্য না করা।’
কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, সংসদে বিরোধীদের প্রত্যাশিত গুরুত্ব না পাওয়ার কারণেও রাজপথে কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি সরকারের প্রতি একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, সরকারের জবাবদিহীতা ঠিক করা–এগুলো পার্লামেন্টের ভেতরে হওয়ার কথা। পার্লামেন্টের ভেতরে তখনই বিরোধীদল যায়, যখন দেখা যায় যে অবস্থা এমন যে সরকার তাদের কোনো কথা শুনছে না। তখন বিরোধীদল রাজপথের রাজনীতিতে যায়।’
বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের লংমার্চের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর করা। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করা এবং রাজনীতির মাঠে সক্রিয় উপস্থিতির জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে বিরোধী দলগুলো।
মন্তব্য করুন