skynews
১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের বিধান কী, আইনে যা বলা আছে

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের বিধান কী, আইনে যা বলা আছে

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির আইন অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে কীভাবে অপসারণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের বিধান কী, আইনে যা বলা আছে

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দুজন অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো এবং তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো করেছে।

এদিকে দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ, অপসারণ এবং আইনি সুরক্ষার বিধান নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

কীভাবে নিয়োগ পান প্রধান নির্বাচন কমিশনার?

ভারতের সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে এই কমিশন। সংসদে প্রণীত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দেন।

২০২৩ সালে অনুপ বরনওয়াল বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিষয়ে একটি নির্দেশনা দেন। আদালত বলেছিলেন, সংসদ এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত নিয়োগের সুপারিশ করবে একটি কমিটি। সেই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং ভারতের প্রধান বিচারপতি থাকার কথা ছিল।

পরবর্তী সময়ে সংসদে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন, ২০২৩’ পাস হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আইনটি কার্যকর হয়। নতুন আইনে নিয়োগের সুপারিশকারী কমিটি থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া হয়। তার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একজন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

See also  চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত একটি সার্চ কমিটি নিয়োগের জন্য বিবেচনাযোগ্য পাঁচজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করে।

নিয়োগের এই নতুন পদ্ধতির বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন করা হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুই বিচারপতির একটি বেঞ্চ মামলাগুলো বৃহত্তর সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে বিভক্ত রায় দেন।

কোন প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা সম্ভব?

ভারতের সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মতোই সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ফলে ইচ্ছামতো বা কেবল রাজনৈতিক দাবির ভিত্তিতে তাকে পদ থেকে সরানো যায় না।

প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতার অভিযোগে নির্ধারিত সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে অপসারণ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ১৯৬৮ সালের বিচারপতি (তদন্ত) আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।

অপসারণের প্রস্তাব লোকসভা ও রাজ্যসভা-সংসদের উভয় কক্ষেই বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হতে হবে। শুধু একটি কক্ষে প্রস্তাব অনুমোদিত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা যাবে না। দুই কক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি অপসারণের আদেশ জারি করতে পারেন।

তবে অন্য নির্বাচন কমিশনারদের ক্ষেত্রে বিধানটি ভিন্ন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সুপারিশ ছাড়া তাদের পদ থেকে অপসারণ করা যায় না।

দায়িত্ব পালনের সময় গ্রেপ্তার থেকে কি সুরক্ষা রয়েছে?

২০২৩ সালের আইনের ১৬ নম্বর ধারায় বর্তমান ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে দায়িত্ব পালনের সময় গৃহীত পদক্ষেপ, সম্পাদিত কাজ কিংবা দেওয়া বক্তব্যের জন্য দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যক্রম থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

তবে আইনের এই ধারায় গ্রেপ্তার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ-এমন কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। একইভাবে তদন্ত বা পুলিশি হেফাজতের বিষয়েও সরাসরি কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এই আইনি সুরক্ষাকে সব ধরনের পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার থেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

এ ছাড়া সুরক্ষার পরিধি মূলত তাদের সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তাও আইনে দেওয়া হয়নি।

See also  হামের উপসর্গে আরও ৭ মৃ*ত্যু, এক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল এক হাজার

সব মিলিয়ে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের জন্য সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা থাকলেও তা কোন পরিস্থিতিতে কতটুকু প্রযোজ্য হবে, সে ক্ষেত্রে আইনের নির্দিষ্ট বিধান বিবেচনা করতে হয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারত থেকে আমদানি করা চালে ক্যানসার সৃষ্টিকারী আফলাটক্সিন, বিতরণ বন্ধ ১৩৫ টন

১

নারায়ণগঞ্জে লিংক রোড অবরোধ করে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ

২

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পোশাকশিল্প মালিকদের বৈঠক

৩

সিপিএসসি বগুড়া, এসআরবি-১২ এর অভিযানে ধর্ষন মামলার এজাহার নামীয় ১নং পলাতক আসামী মোঃ নাইফ হাসান (২৭) গ্রেফতার

৪

বগুড়ায় ট্যাপেন্টাডল, ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী আটক

৫

সেভেন সিস্টার্সে বিদ্যুৎ নিতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি চায় ভারত

৬

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত এলিজা জামান

৭

পোশাক কারখানায় উৎপাদন চালু রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

৮

গভর্নিং বডির সভাপতি হতে স্নাতকোত্তর নয়, স্নাতক ডিগ্রিই যথেষ্ট

৯

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

১০

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি ১১ দলীয় ঐক্যের

১১

ঢাকার মেট্রোরেলের ১০০ কোটি ডলারের কাজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি

১২

ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশের পর গ্রেপ্তার, জামিন পেলেন সেই নারী

১৩

ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে ইসির ক্ষমতা বৃদ্ধি, সিসি ক্যামেরায় নজরদারিসহ নানা উদ্যোগ

১৪

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর

১৫

ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিতেই এমপিকে ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান, উত্তেজনা

১৬

নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি: সিইসি

১৭

১৮ দিন ধরে বন্ধ রিয়াদ-দাম্মামের ফ্লাইট, এয়ারলাইন্সের ক্ষতি ১০০ কোটি টাকা

১৮

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

১৯

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর, ১০ দিন পর উদ্ধার শিক্ষিকার দেহাবশেষ

২০