
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনগ্রেড অবনমন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপের প্রতিবাদে সারাদেশে কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বনানী বিএডিসি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে অংশ গ্রহন করেন বগুড়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সঞ্চয় সরকার, যুগ্ম পরিচালক উৎপল কুমার সাহা, উপপরিচালক বৃন্দ, সিনিয়র সহকারী পরিচালক, সহকারী পরিচালকবৃন্দ সহ বিএডিসি বগুড়ার সকল দপ্তরের কর্মচারীবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই কর্মসূচি এমন সময়ে শুরু হলো, যখন দেশে আমন মৌসুম চলছে। এ মৌসুমে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনিতেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় সার সংকটের অভিযোগ রয়েছে। বিএডিসি সার আমদানি, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। তাই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে সার সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করার হুশিয়ারী দিয়েছেন তারা।
এমনকি পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি বা কমপ্লিট শাটডাউনের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন।
বিএডিসি বগুড়ার একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক এক আদেশে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উইংয়ের ৩৮টি ক্যাটাগরির পদের বেতনগ্রেড ও নিয়োগযোগ্যতা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মহাব্যবস্থাপকসহ প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ পদের বেতনগ্রেড এক ধাপ করে কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ফিডার পদে চাকরির মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে।
কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নতুন আদেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত পদমর্যাদা ও বেতনগ্রেডের অবনমন করা হয়েছে। এতে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগও সংকুচিত হবে। এ সিদ্ধান্ত জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি তাদের।
বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, এতদিন প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান প্রকৌশলী পদ ছিল দ্বিতীয় গ্রেডের। নতুন আদেশে এসব পদ তৃতীয় গ্রেডে নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে অতিরিক্ত পরিচালক ও অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক পদ তৃতীয় গ্রেড থেকে চতুর্থ গ্রেডে, উপপ্রধান প্রকৌশলী, যুগ্ম প্রধান ও যুগ্ম হিসাব নিয়ন্ত্রক পদ চতুর্থ গ্রেড থেকে পঞ্চম গ্রেডে এবং উপপরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী পদ পঞ্চম গ্রেড থেকে ষষ্ঠ গ্রেডে নামানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও বলছেন, ১৯৬১ সালে বিএডিসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদটি পঞ্চম গ্রেডের ছিল। নতুন আদেশে তা ষষ্ঠ গ্রেডে নামানো হয়েছে। একইভাবে প্রধান চিকিৎসক পদও চতুর্থ গ্রেড থেকে ষষ্ঠ গ্রেডে নামানো হয়েছে বলে তাদের দাবি।
অর্থ বিভাগের আদেশে বিএডিসির চারটি পরিচালক পদে সরকারের যুগ্ম সচিব অথবা অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রেষণে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন বিএডিসির কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, এর ফলে বিএডিসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের সদস্য পরিচালকসহ উচ্চতর পদে যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।
অতীতে বিএডিসির নিজস্ব কর্মকর্তারা সদস্য পরিচালক এমনকি চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তারা জানান।
নতুন আদেশে উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তাদের অভিযোগ। তাদের ভাষ্য, দ্বিতীয় গ্রেডে যাওয়ার ক্ষেত্রে তৃতীয় গ্রেডে পাঁচ বছর চাকরিসহ মোট ২৪ বছরের চাকরির শর্ত দেওয়া হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও ১৩ বছরের চাকরির শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের দাবি, জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ অনুযায়ী দ্বিতীয় গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ১৭ বছরের চাকরির শর্ত থাকলেও নতুন আদেশে মোট চাকরির মেয়াদ ২৪ বছর করা হয়েছে। একইভাবে পঞ্চম গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রচলিত ১০ বছরের পরিবর্তে ১৩ বছরের শর্ত দেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগের নতুন আদেশ বাতিল এবং আগের বেতনগ্রেড ও পদোন্নতির সুযোগ পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল থেকে কর্মসূচি শুরু করেছেন বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মন্তব্য করুন