
রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার বিকেলে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, ওই ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দল ও পিবিআই সদস্যরা কাজ করছেন।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা ঘটনার খবর পান। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটতে পারে।
গত জুলাইয়ে মগবাজারের একটি হোটেলে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে প্রথমে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছিল। পরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।
ওই পোস্টে তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে গিয়েছিলেন।
নিজের ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ওই অফিসে অবস্থানের সময় যোহরের নামাজের আগে তার গাড়িচালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে তিনি পাঁচ থেকে সাতজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন বলে দাবি করেন তিনি।
এমপি আরও দাবি করেন, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে তিনি চলাচলের জন্য ব্যবহৃত ভাড়ার গাড়িটিও আটকে রাখা হয় এবং দফায় দফায় তাদের কাছে কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।
মরিয়মকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে পড়েন গাজী নজরুল ইসলাম। পরে তাকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ, সিআইডির ফরেনসিক দল ও পিবিআই ঘটনাস্থলে কাজ করছে। মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের পর জানা যাবে।
মন্তব্য করুন