
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। সোমবার দুজনই নিজেদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন।
এর আগে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিলেন। দল থেকেও তাকে দক্ষিণ সিটির মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি উত্তর সিটি থেকে নির্বাচন করবেন।
অন্যদিকে, দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে মেয়র পদে লড়বেন।
এনসিপির শীর্ষ কয়েকজন নেতা জানান, নির্বাচনী আইন ও কৌশলের অংশ হিসেবেই দুই নেতার ভোটার এলাকা অদলবদল করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা থেকে তুরাগ-পুরো ঢাকায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে দুই নেতার প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলেও জানান দলীয় নেতারা।
সোমবার সন্ধ্যায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, দুই শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। নির্বাচনী আইন ও কৌশলের অংশ হিসেবেই এটি করা হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে, তারা ঢাকার কোন দুই সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচন করবেন।
এদিকে আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কাজ করবেন। কয়েক দিনের মধ্যেই দল থেকে সার্বিক বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি মানুষের জন্য কাজ করছি, সাধারণ মানুষের হয়েই লড়ছি।’
এর আগে আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নিজের ফেসবুক পোস্টে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে তিনি আবেদন করেছিলেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা শেষে নির্বাচন কমিশন তাঁর আবেদন অনুমোদন করে।
এর ফলে তাঁর ভোটার নিবন্ধন এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, সোমবার এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভোটার স্থানান্তর করেছেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করেছিলেন পাটওয়ারী। আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। ঢাকা-৮ আসনের মধ্যে ডিএসসিসির ৮ থেকে ১৩ এবং ১৯ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ড রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন।
নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির মির্জা আব্বাসের কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন পাটওয়ারী। তিনি ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
নির্বাচনের পর ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনা এবং শপথ স্থগিত রাখার আবেদন করেছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তবে নির্বাচনের সময় তাঁর ভোটার এলাকা ঢাকা-৮ আসনের বাইরে থাকায় তিনি নিজের প্রার্থিতার আসনে ভোট দিতে পারেননি। ভোটের দিন তিনি জানিয়েছিলেন, আগে সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি দেখছেন, পরে নিজের ভোট দেওয়ার কথা ভাববেন।
মন্তব্য করুন