
সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আলোচনার জন্য উঠতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে যেকোনো সময় পে স্কেল ঘোষণার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে নবম পে স্কেল নিয়ে গঠিত সচিব কমিটি খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করবে।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রণীত নতুন পে স্কেল অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
এর একদিন আগে রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারও পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকার কথা জানান। তিনি বলেন, এটি সরকারের প্রতিশ্রুতির অংশ এবং যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা হতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি বা মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে মুখ্য সচিব জানান, বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন নতুন পে স্কেল না হওয়ায় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেন, সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় বছর পরপর নতুন পে স্কেল হওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামো না হওয়ায় প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী চাপের মধ্যে রয়েছেন। তাদের বেতন মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা প্রয়োজন।
নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে গঠিত ওই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।
এখন কমিশনের সুপারিশসহ পরবর্তী পর্যালোচনার ভিত্তিতে সচিব কমিটির চূড়ান্ত করা খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলেই দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবম জাতীয় পে স্কেলের ঘোষণা আসতে পারে।
মন্তব্য করুন