
সরকার গঠনের প্রায় সাত মাস পর প্রথমবারের মতো সচিব সভা বসতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠেয় এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সাধারণত নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সচিব সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার রীতি রয়েছে। তবে এবার বছরের প্রথমার্ধ পেরিয়ে যাওয়ার পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এ সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
দেশে বর্তমানে ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাইরে সব মিলিয়ে সচিবের সংখ্যা ৯৪ জন, যার মধ্যে দুজন ভারপ্রাপ্ত সচিব। এর মধ্যে ১১ জন সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন এবং তাদের কোনো দাপ্তরিক দায়িত্ব নেই। সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, এসব কর্মকর্তাকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
এবারের সভায় ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের পাশাপাশি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ মোট ৬২ জন সচিবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সভায় যোগ দেওয়ার আগে প্রত্যেক সচিবকে নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কাজের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রস্তুতি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সচিব সভায় চারটি নির্ধারিত এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা, সরকারি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, জনকল্যাণমুখী ও কার্যকর করার উপায় নির্ধারণ, সচিবদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত জনগণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে-এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-৩০)’ বাস্তবায়ন।
এ ছাড়া কৌশলপত্রটির একটি করে অনুলিপি প্রত্যেক সচিবকে পাঠানো হয়েছে।
সচিব সভার প্রস্তুতি সম্পর্কে দ্য ডেইলি স্টার অন্তত তিনজন সচিবের সঙ্গে কথা বলেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সচিব জানান, সভায় মূলত প্রশাসনের কাজের গতি বাড়ানোর বিষয়ে নির্দেশনা আসতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চলমান কার্যক্রম এবং তাদের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের এক সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে এটিই প্রথম সচিব সভা। সাধারণত একটি সভার পর পরবর্তী সভায় আগের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা মূল্যায়ন করা হয়। এবার সে ধরনের মূল্যায়নের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে কীভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়, সেটিও আলোচনায় আসতে পারে। এর পাশাপাশি নির্ধারিত লিখিত এজেন্ডাগুলো তো থাকছেই।
সরকার গঠনের এতটা সময় পর কেন সচিব সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং আগে কেন সভা আহ্বান করা হয়নি-এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এবারের নির্বাচন ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ছিল না। এর আগে দেশে একটি গণঅভ্যুত্থানও হয়েছে।
তার মতে, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কাঠামো এখনো পুরোপুরি গোছাতে সরকারকে বেশ কিছুটা সময় দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকার গঠনের পরপরই দ্রুত সচিব সভা আয়োজন করা সম্ভব না হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল।
মন্তব্য করুন