
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে-দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, সিসমিক জরিপ পরিচালনা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) শক্তিশালী করা, প্রোডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট (পিএসসি) ও বিডিং কার্যক্রম এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানা (৩৩৫ মহিলা আসন-৩৫) এর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এসব উদ্যোগের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সরকার সমন্বিতভাবে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভরতার কারণে বর্তমান জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০টি কূপ খননের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
বর্তমানে আরও সাতটি কূপ খননের কাজ চলছে। এসব কূপের খনন শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। বাকি কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস শনাক্ত করতে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।
অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফশোর ও অনশোর এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোম এলাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন চলছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বর ২০২৮ সালের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি বা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত এসব ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।
মন্তব্য করুন