
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে আজ শনিবার পালিত হচ্ছে মহালয়া। এদিন থেকেই শুরু হয়েছে দেবীপক্ষের, আর এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা শুরু হলো।

মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে মর্ত্যলোকে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানান ভক্তরা। পিতৃপক্ষের অবসানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবীপক্ষ। হিন্দু শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার তিথিতেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মর্ত্যে তার আগমনের সূচনা হয়।
আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। তবে মহালয়া থেকেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে।
মহালয়া উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, উত্তরা সার্বজনীন মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরে ভোরে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুর্গাপূজার মহালয়া উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন বলেন, হিন্দু-মুসলিমসহ সব মানুষের পরিচয় বাংলাদেশি। দেশের প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবেন—এটাই বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না। সবাই মর্যাদা নিয়ে বাঁচবেন এবং সমান অধিকার ভোগ করবেন। বৈষম্যের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্য। বাংলাদেশের মূল শক্তি জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারের প্রধান লক্ষ্য জনকল্যাণ নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও বক্তব্য দেন। তিনি দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা জানিয়ে বলেন, পুরো পৃথিবী যেন ভালো থাকে এবং বিশ্বজুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।
দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, মানুষের মধ্যে থাকা অসুরসুলভ প্রবৃত্তির বিনাশ হওয়া প্রয়োজন। চিন্তা-ভাবনার মধ্যেও অসুরের উপস্থিতি থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি পূর্বপুরুষদের স্মরণ এবং বিশ্বশান্তির জন্য প্রার্থনার কথা তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন