
তদন্তের মানোন্নয়ন ও পেশাদারি বজায় রাখার নির্দেশ ডিআইজির
রংপুর রেঞ্জের আট জেলায় গত সেপ্টেম্বর মাসে ২১টি হত্যাকাণ্ড, ৭১টি ধর্ষণ এবং ৪৪টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এসব সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪১ জন। একই সময়ে রেঞ্জজুড়ে ১ হাজার ৭৪৪টি মামলা দায়েরের বিপরীতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ১ হাজার ৭৭০টি মামলা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
সভায় রেঞ্জের আট জেলার অপরাধ পরিস্থিতি, মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তি, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর, সড়ক দুর্ঘটনা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে রংপুর রেঞ্জে ২১টি হত্যাকাণ্ড, ৫টি দস্যুতা ও ৩টি অপহরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৭১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে তিনটি গণধর্ষণ। একই সময়ে নারী নির্যাতনের ১৭২টি, শিশু নির্যাতনের ২৩টি এবং বিভিন্ন ধরনের ৮৮টি চুরির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য উদ্ধার-সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৫৬২টি।
সেপ্টেম্বর মাসে রংপুর রেঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত মোট ৪৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা পুলিশের অধীনে ২৯টি এবং হাইওয়ে পুলিশের অধীনে ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত হয়েছেন।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ১৩টি দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশের গোবিন্দগঞ্জ থানার আওতাধীন এলাকায় ১০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৩৩টি।
রংপুর রেঞ্জে মাসের শুরুতে অনিষ্পন্ন জিআর ও সিআর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার ৪৮৫টি। সেপ্টেম্বর মাসে ৬ হাজার ৭৯টি পরোয়ানা নিষ্পত্তি হওয়ায় মাস শেষে অনিষ্পন্ন পরোয়ানার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৪০৬টিতে।
এদিকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সেপ্টেম্বর মাসে ৩ হাজার ৫৫৯টি প্রসিকিউশন করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ১ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭৫ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারের অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ-সংক্রান্ত ১ হাজার ৮০৪টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলার বিপরীতে ৩৫৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
সভায় পুলিশ সদস্যদের পেশাদারত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তিনি বলেন, ‘পেশাদারি থেকে আমরা বের হয়ে গেছি, আমাদের পেশাদারি বজায় রাখতে হবে।’
মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ডিআইজি আরও বলেন, মামলার ধরন ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
মন্তব্য করুন