
দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর জন্য ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে দলটি। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন করে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।

শনিবার (২২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন এনসিপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস (FWCMS) বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু কোন প্রক্রিয়া, মানদণ্ড বা ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এনসিপি জানায়, এর আগে বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দেশটির কাছে পাঠিয়েছিল। সেখান থেকে মাত্র ২৫টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং এর ভিত্তি কী—বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তা পরিষ্কার করা জরুরি।
দলটির অভিযোগ, অতীতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। সরকার নির্ধারিত ৭৯ হাজার টাকার বিপরীতে একজন কর্মীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে বিদেশে যাওয়ার আশায় অনেক কর্মী জমি-জমা বিক্রি, সহায়-সম্বল শেষ করা কিংবা ঋণগ্রস্ত হতে বাধ্য হয়েছেন।
এনসিপির ভাষ্য, এবারও যদি সীমিতসংখ্যক এজেন্সিকে কেন্দ্র করে একই ধরনের ব্যবস্থা তৈরি হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বিদেশ যেতে আগ্রহী সাধারণ মানুষ। তাই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে কর্মীদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ বন্ধ করতে হবে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়া বাংলাদেশের কর্মপ্রত্যাশী মানুষের জন্য বড় সুযোগ। তবে অতীতের সিন্ডিকেটের পরিবর্তে নতুন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি হোক, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিদেশে যেতে গিয়ে কোনো কর্মী জমি বিক্রি বা ঋণ নেওয়ার পর তার কষ্টার্জিত অর্থ যেন কোনো সিন্ডিকেটের হাতে না যায়, সরকারকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এনসিপি আরও বলেছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই এবং সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর যথাযথ তদন্ত করা প্রয়োজন। অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি একই চক্র যেন নতুন নামে বা নতুন কাঠামোয় ফিরে আসতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে নিয়োগের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা কর্মীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের দাবি জানিয়েছে এনসিপি। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সংখ্যা, পদ্ধতি, অভিবাসন ব্যয় ও অন্যান্য শর্ত চূড়ান্ত করে তা স্বচ্ছভাবে জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কোনো নির্দিষ্ট কয়েকটি এজেন্সির একচেটিয়া ব্যবসার ক্ষেত্র হতে পারে না। যোগ্য ও বৈধ সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য ন্যায্য সুযোগ, কর্মীদের জন্য সহনীয় অভিবাসন ব্যয় এবং পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে এনসিপি আরও বলেছে, বাংলাদেশের কর্মীদের কষ্টার্জিত অর্থ কোনোভাবেই নতুন কোনো সিন্ডিকেটের মুনাফার উৎস হতে দেওয়া যাবে না।
মন্তব্য করুন